আইন আছে, নেই প্রয়োগ: জাদুকাটায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য
সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী জাদুকাটা নদী এখন আর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত নয়; অভিযোগ উঠেছে, এটি পরিণত হয়েছে চাঁদাবাজি ও নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনের কেন্দ্রস্থলে। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নদীসংলগ্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রস্থ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা আশপাশের জনপদ ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থার মধ্যেই ইজারার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি নৌযান থেকে নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফাজিলপুর এলাকায় একাধিক পয়েন্টে এই অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
শ্রমিক ও নৌযান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নৌকা আটকে রাখা, মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগও সামনে এসেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও কার্যকর সমাধান এখনো আসেনি।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আবু বশার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ বা ক্যাশ কালেকশনের নামে চাঁদাবাজির খবর আমরা পেয়েছি। কিন্তু কেউ মামলা দায়ের করছে না। অভিযোগ করলেও পরে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অভিযোগ থাকলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম। তবে তিনি স্বীকার করেন, নদীতে মাঝেমধ্যে লাশ পাওয়া যায়, যা চাঁদাবাজির চেয়ে আলাদা আইনগত বিষয় হিসেবে দেখা হয়।
নৌকা মালিক আবুল হোসেনের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে দিনের পর দিন নৌকা আটকে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ব্যবসা চালাতে হয়। জেলা ট্রলার নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নদীটি শুধু একটি বালুমহাল নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এখানে সুশাসন নিশ্চিত করা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, কার্যকর নজরদারি ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ছাড়া এ সমস্যা সমাধান কঠিন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: