সিলেটে বইমেলা বাতিল ও তিন ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
সিলেটে প্রকাশক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলা বাতিল, আগে থেকেই অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট বিতর্ক—সব মিলিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শুক্রবার ২৪ এপ্রিল থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিল সিলেট প্রকাশক পরিষদ। তবে উদ্বোধনের আগের রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে পূর্বে দেওয়া অনুমতি বাতিল করে দেয়।
এসএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কী ধরনের ঝুঁকি বা নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে—তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলা আয়োজনকে ঘিরে কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক অতীত ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে এবং পরে কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী মেলা বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগও দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, শহীদ মিনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিতর্কিত সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে আয়োজক প্রকাশক পরিষদ জানিয়েছে, তারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। স্টল নির্মাণ থেকে শুরু করে ঢাকা ও সিলেটের প্রায় ২০টি প্রকাশনীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে অনুমতি বাতিল হওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
একই সময়ে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরও দুইটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটে অতীতেও বইমেলা আয়োজন নিয়ে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ করার অভিযোগ। এছাড়া অতীতে একই ধরনের আয়োজন বন্ধ হওয়ায় আয়োজকরা ধারাবাহিক অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছে, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে মেলা বাতিল হওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন বাধাগ্রস্ত হওয়া একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা তৈরি করছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অভিযোগের ভারসাম্য রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: