সুনামগঞ্জে ড্রেন সংস্কারের দাবি: পানিবাহিত রোগের আশঙ্কায় জনজীবন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং জনসচেতনতার অভাবে এক সময়ের আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখন ময়লার ভাগাড় ও মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এতে করে শহরের তেঘরিয়া ও বড়পাড়া এলাকাসহ আশপাশের বাসিন্দারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান মমিনুল মউজ দীন শহরকে জলজটমুক্ত ও আধুনিক রাখতে ৫ ফুট গভীরতার সুপরিকল্পিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ড্রেনগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ ফুট গভীরতার ওই ড্রেনগুলো পলি এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে রূপ নিয়েছে। অধিকাংশ ড্রেনের ওপর ঢাকনা না থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত সেখানে বর্জ্য ফেলছে, যা পানি নিষ্কাশন পথকে সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দিয়েছে।
শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেঘরিয়া (আমপারা, লম্বা হাঁটি, মাঝের হাঁটি, মড়লহাটি ও পশ্চিম তেঘরিয়া) এবং বড়পাড়া এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেয়। ড্রেনে আটকে থাকা পচা পানির অসহ্য দুর্গন্ধে জনজীবন বিষিয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় ড্রেনের পানি উপচে রাস্তাঘাটে চলে আসছে, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
৬নং ওয়ার্ড (পশ্চিম বাজার) এর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তারা বলছেন, এই ড্রেনগুলো এখন ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে ড্রেনগুলো সংস্কার ও পরিষ্কার না করলে এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ড্রেনগুলো থেকে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ সচল করতে হবে। সেই সাথে পথচারী ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি ড্রেনের ওপর স্থায়ী ঢাকনা (স্লেব) নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালী কৃষ্ণ পাল বলেন, সুনামগঞ্জ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার বর্তমান সংকটটি আমাদের নজরে রয়েছে। এটি ঠিক যে, দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ড্রেনগুলো অকার্যকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তেঘরিয়া ও বড়পাড়া এলাকার সমস্যাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে দেখছি। এই সমস্যা নিরসনে আমরা একটি জরুরি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ড্রেনগুলো পরিষ্কার এবং ঢাকনা নির্মাণের জন্য আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুত এই সংকট সমাধান হবে বলে জানান তিনি।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: