অনিয়মের কারখানা সদর হাসপাতাল
সুনামগঞ্জে তত্ত্বাবধায়কসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ওয়ার্ডবয়ের মামলা
সুনামগঞ্জে ২৫০ জন্য বিশিষ্ট হাসপাতাল যেন অনিয়মের কারখানা। স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়ম হাসপাতালের নিত্যসঙ্গী। সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠানে সেবার পরিবর্তে সেবা নিচ্ছেন কর্তা ব্যক্তিরা। ফলে সুনামগঞ্জ জেলার সর্ববৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে কাঙ্খিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক লোকজন। তবে অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ব চলছে যথারীতি।
হাসপাতালের সকল অনিয়ম উল্লেখ করে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেছেন হাসপাতালের সাবেক এক ওয়ার্ডবয়। সোমবার (২৮ জুলাই) মামলাটি দায়ের করেন পৌর শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা হাছন আলীর ছেলে মো. তৌহিদ মিয়া। দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনের ৮ টি ধারায় মামলা করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার আইনজীবী মোহাম্মদ আমিরুল হক।
মামলায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বপন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান, হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান জুবায়ের আহমদ, হেলথ এডুকেটর নয়ন দাস, সাবেক যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ও গাউসিয়া ট্রেডার্স সিকিউরিটি ক্লিনিং এন্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদসহ আরও অজ্ঞাতনামা পাঁচ জনকে আসামী করা হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বপন এর দুর্নীতি তোলে ধরে মামলায় উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালে সরকারি সবধরণের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু তত্বাবধায়ক অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় রোগীর লেবার ওটি না করে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রেফার করেন। সরকারি ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাসপাতালে থাকলেও রোগীর আত্মীয় স্বজনদের বাইরের ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনে আনতে তাগিদ সৃষ্টি করেন। অথচ রোগীকে সরকারি ওষুধ সরবরাহ করা হয়। আর ফার্মেসী থেকে রোগীর কিনে আনা ওষুধ দালালের মাধ্যমে বাজারে নির্ধারিত ফার্মেসীতে বিক্রি করা হয়। এভাবে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মামলায় অভিযুক্ত এই সিন্ডিকেট।
এদিকে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বপন আউটসোর্সিংয়ের ঠিকাদার নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একে আজাদ মালিকাধীন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত গাউসিয়া ট্রেডার্স সিকিউরিটি ক্লিনিং এন্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানকে জনবল সরবরাহের জন্য অনুমোদন প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট নিয়ম লংঘন করে একটি অদৃশ্য চুক্তির মাধ্যমে আউসসোর্সিং প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ঘুষ প্রদানের টাকা শোধ করে নিতে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগপ্রতি ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকা নেওয়ারও প্রমান রয়েছে।
মামলার বাদী মো. তৌহিদ মিয়া বলেন, হাসপাতালের সকল অনিয়ম দূর করতে হবে। এজন্য আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার আইনজীবী আমিরুল হক ‘প্রথম সিলেট’ কে জানান, সুনামগঞ্জের একমাত্র সেবামূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। এখানে দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রূপ নিয়েছে। হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রি হয়ে যায়। আউটসোর্সিং ঠিকাদার ও জনবল নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তিনি জানান, মাননীয় বিচারক গভীর মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনেছেন। আমাদের নালিশ পূর্ণাঙ্গভাবে দেখেছেন। মামলাটি বর্তমানে আদেশের জন্য রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুুবুর রহমান বললেন, উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: