হবিগঞ্জে ১১শ কেজির সেই ‘পুষ্পা’ বিক্রি হয়ে গেল সাড়ে ৭ লাখ টাকায়
Led Bottom Ad

হবিগঞ্জে ১১শ কেজির সেই ‘পুষ্পা’ বিক্রি হয়ে গেল সাড়ে ৭ লাখ টাকায়

ফয়সল চৌধুরী,হবিগঞ্জ

২৪/০৫/২০২৬ ২৩:০৯:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের পশুর হাটে ও খামারিদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ১১শ কেজি (২৭-২৮ মণ) ওজনের এক বিশাল ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছিল ‘পুষ্পা’। খামারি গরুটির দাম শুরুতে ১০ লাখ টাকা হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিশাল আকৃতির এই ‘পুষ্পা’কে কিনতে আজ রোববার সকালে ঢাকার ওয়ারী এলাকা থেকে এক ক্রেতা সরাসরি খামারে এসে এটি ক্রয় করেন।


কোরবানির জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এই পশুটি প্রস্তুত করেছিলেন মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়ার ‘পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্ম’-এর খামারি মুত্তাকিন চৌধুরী।


খামারি মোত্তাকিন চৌধুরী জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে ৩ বছর ধরে ষাঁড়টিকে আমরা খামারে লালন-পালন করেছি। প্রতিদিন সকাল-বিকেল আমি নিজেই এর যত্ন নিতাম। আমরা শখ করে এর নাম রেখেছিলাম ‘পুষ্পা’। এর ওজন প্রায় ১১শ কেজি। আমরা ১০ লাখ টাকা দাম চাইলেও আজ সকালে সাড়ে ৭ লাখ টাকায় ঢাকার এক ক্রেতার কাছে এটি বিক্রি করেছি।


তিনি আরও জানান, শুধু পুষ্পা-ই নয়, তাঁর খামারে ২৫ জন শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রায় ৩ শতাধিক পশু দেশীয়ভাবে লালন-পালন করা হয়েছে। এবার কোরবানির জন্য ছোট, বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ৯০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল, যার বেশির ভাগই হাটে নেওয়ার আগেই খামার থেকে বিক্রি হয়ে গেছে।


এদিকে সব খামারির মুখে পুষ্পার মালিকের মতো হাসির ঝিলিক নেই। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের খামারি তুহিন মিয়া জানান, তিনি শাহীওয়াল ও নেপালীসহ বিভিন্ন জাতের ১৫টি পশু এবার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। তবে তাঁর কণ্ঠে ছিল উদ্বেগের সুর। তিনি বলেন, "পশু লালন-পালনে খরচ আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। গো-খাদ্যের দাম চড়া হওয়ায় এবার খরচ অনুপাতে লাভ তেমন হচ্ছে না।


এদিকে জেলাজুড়ে পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করলেও এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি। হাটে প্রচুর পশু উঠলেও ক্রেতাদের বড় অংশই এখন হাট ঘুরে দরদাম যাচাই করছেন। ক্রেতাদের উপস্থিতির তুলনায় গরু-ছাগল বিক্রি হচ্ছে কম। ঝামেলা এড়াতে সাধারণ ক্রেতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা অনেক সময় হাটে না গিয়ে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হাটের উদ্দেশ্যে আসা গরু-ছাগল আটকে দরদাম করে কেনার চেষ্টা করছেন।


লাখাই উপজেলা থেকে হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাজারে ৫টি গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা জলিল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দুই দিন ধরে বাজারে গরু নিয়ে বসে আছি, কিন্তু কেউ তেমন দরদাম করছে না। জানি না গরুগুলো শেষ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারব কি না, নাকি লোকসান গুনতে হবে।"


অন্যদিকে, ক্রেতাদের অভিযোগ বিক্রেতারা অতিরিক্ত দাম চাচ্ছেন। গ্রিস প্রবাসী মোহন মিয়া বলেন, "সপ্তাহখানেক আগেও গরুর দাম কিছুটা কম ছিল। এখন বিক্রেতারা অনেক বেশি দাম চাচ্ছেন। যে গরু আগে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল, এখন সেটির দাম চাচ্ছে দেড় লাখ টাকা।" তবে হাট ইজারাদার ও বিক্রেতাদের দাবি, ঈদের আগের শেষ দুই দিনেই মূলত বেচাকেনা পুরোদমে জমে উঠবে।


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার। এর বিপরীতে জেলার ১ হাজার ৪৪৪টি খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পশু বাইরের জেলাগুলোতেও বিক্রি করা সম্ভব হবে। খামারিরা তাদের পশু বিক্রির জন্য হাটের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন।


জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম জানান-আমরা খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, এ বছর চুনারুঘাটের সীমান্ত এলাকায় কোনো পশুর হাট বসবে না। তাই অবৈধভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশের সম্ভাবনা কম। তারপরও দেশীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা প্রয়োজন।

ফয়সল চৌধুরী /ডি আর ডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad