কমলগঞ্জে প্রভাবশালীর বাঁশে ভাঙল দরিদ্রের ঘর, থানায় অভিযোগ
Led Bottom Ad

কমলগঞ্জে প্রভাবশালীর বাঁশে ভাঙল দরিদ্রের ঘর, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

২৫/০৫/২০২৬ ১৩:৩৬:৩৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামে এক হতদরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি ভাঙচুর, অবরুদ্ধ ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মোঃ ফরিদ মিয়া (৬০) নিরুপায় হয়ে অভিযুক্ত প্রতিবেশী সুরমা বেগমের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভানুবিল গ্রামের মৃত মজিদ মিয়ার ছেলে দিনমজুর মোঃ ফরিদ মিয়ার বসতঘরের ঠিক পাশেই প্রতিবেশী সুরমা বেগমের একটি বড় বাঁশঝাড় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাঁশঝাড়ের বিশাল একটি অংশ ফরিদ মিয়ার বসতঘরের টিনের চালের ওপর বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। মাসখানেক আগে এক ঝড়-বৃষ্টির সময় হেলে থাকা বাঁশগুলোর আঘাতে ফরিদ মিয়ার টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যায় এবং ঘরের বেড়া ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ঘরের বেড়াটি নতুন করে মেরামত করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। সামান্য বাতাস বা বৃষ্টি হলেই বাঁশগুলো টিনের চালে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে, যার ফলে পরিবারটি নিয়ে ঘরের ভেতর আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে ফরিদ মিয়াকে।


ভুক্তভোগী ফরিদ মিয়া জানান, ঘরটি রক্ষা করতে সুরমা বেগমকে একাধিকবার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশগুলো কাটার অনুরোধ করা হলেও তিনি তা কাটেননি। উল্টো অনুরোধ করতে গেলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও নানা রকম হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। অত্যন্ত নিরীহ ও সহজ-সরল প্রকৃতির এই পরিবারটিকে এলাকাছাড়া করতে গত মাসে সুরমা বেগম থানায় একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করেন বলেও ভুক্তভোগী জানান।


এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সুরমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাঁশগুলো কেটে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বাঁশ কাটবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন এবং স্থানীয়দের ওপর চড়াও হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই নারী অত্যন্ত উশৃঙ্খল প্রকৃতির। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও মস্তান প্রকৃতির ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর সখ্য থাকায় তাদের দাপট দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অসহায় ও দরিদ্র প্রতিবেশী পরিবারটির ওপর অন্যায়-অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন।


বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। অসহায় ফরিদ মিয়া এই অন্যায়ের প্রতিকার এবং শান্তিতে বসবাসের অধিকার চেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কমলগঞ্জ থানা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad