শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানের বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল যুবকের
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বন্যপ্রাণী তাড়ানোর জন্য লেবু বাগানে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে সুনিল সাঁওতাল (৩৫) নামে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুনিল সাঁওতাল রাধানগর এলাকার রবিয়া সাঁওতালের ছেলে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও চা-শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন আতিকুর রহমান জরিপের মালিকানাধীন জমি লিজ নিয়ে লেবু বাগান পরিচালনা করছিলেন ডলুবাড়ি এলাকার আলতাফ মিয়ার ছেলে অর্জুন মিয়া। বাগানটিতে প্রায়ই পার্শ্ববর্তী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে বন্য শূকর ও বানরের দল নেমে এসে ফসলের ক্ষতি করত। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ ঠেকাতে বাগানের চারপাশের কাঁটাতারের বেড়ায় মেইন লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করে রাখা হয়েছিল।
আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে সুনিল সাঁওতাল গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে ওই বাগানের পাশে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের সংস্পর্শে এলে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন্যপ্রাণী তাড়ানোর নামে এভাবে মানুষের চলাচলের পথে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। আজ সুনিল মারা গেছে, যেকোনো দিন যে কেউ এই ফাঁদে পড়তে পারত। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও মূল অপরাধী অর্জুন মিয়াসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সচেতন মহলের অভিযোগ, লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পাশে এভাবে খোলা বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করায় শুধু মানুষের জীবনই নয়, বনের পশুপাখিও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় বনের বানর, চিতা বিড়াল বা হনুমান এভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছে।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে লিজগ্রহীতা অর্জুন মিয়া ও জমির মালিক আতিকুর রহমান জরিপ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না প্রথম সিলেটকে বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাগানের চারপাশের কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
শাহিন আহমেদ/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: