হবিগঞ্জের নারীকে ঢাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় হবিগঞ্জের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া আসামির নাম উজ্জ্বল মিয়া (৪৫)। মঙ্গলবার (২৬ মে) মধ্যরাতে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে সকালে ধলপুর বউবাজার চৌরাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে মুগদা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে গত ২১ মে এলাকার সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট) ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, ওই নারীকে একাধিক ব্যক্তি মিলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি জানার পর নিহতের ছোট ভাই রাসেল বাদী হয়ে গত ২২ মে যাত্রাবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা ইতিমধ্যে আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: