আদম ব্যবসায়ী আটক
সুনামগঞ্জে পাচারকারীর কবল থেকে ফিল্মি স্টাইলে মেয়েকে উদ্ধার করলেন পিতা
বিদেশ পাঠানোর নামে মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়ার ৯ দিন পর, নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতায় পাচারকারীকে আটকে রেখে মেয়েকে উদ্ধার করেছেন এক বীর পিতা। সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও ছাতক এলাকায়। স্থানীয় জনতার সহায়তায় মূল অপরাধীকে আটকে রেখে অপহৃত মেয়েকে উদ্ধার করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মেয়ের নাম সুমনা বেগম। তার বাবার নাম সমুজ আলী, যিনি ছাতক উপজেলার বাসিন্দা। অভিযুক্ত পাচারকারী সিজুল মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দা এবং এলাকায় 'আদম ব্যবসায়ী' হিসেবে পরিচিত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমনা বেগমকে ভালো বেতনে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েছিলেন আদম ব্যবসায়ী সিজুল। কিন্তু বিদেশ পাঠানোর নামে মূলত তাকে মোটা অঙ্কের টাকায় অন্য এক চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর টানা ৯ দিন সুমনার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান মেলাতে পারছিলেন না বাবা সমুজ আলী।
মেয়ের কোনো হদিস না পেয়ে সমুজ আলী নিজেই অনুসন্ধানে নামেন। বিশ্বস্ত সূত্রে পাচারকারী সিজুলের অবস্থান জানতে পেরে তিনি স্থানীয় জনতার সহায়তা নেন। সুকৌশলে ছাতক এলাকায় পাচারকারী সিজুলকে প্রথমে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে আটকে পড়া পাচারকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একদম সিনেমার কায়দায় জগন্নাথপুর উপজেলার একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালান সমুজ আলী। সেখান থেকে বন্দি ও আতঙ্কিত অবস্থায় মেয়ে সুমনা বেগমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তিনি। উদ্ধার পর্ব শেষে মেয়েকে নিয়ে তিনি নিরাপদে ছাতকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো সুনামগঞ্জ জুড়ে সমুজ আলীর সাহসিকতার প্রশংসা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন সাধারণ বাবা হয়েও যেভাবে তিনি অপরাধী চক্রের হাত থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে এনেছেন, তা সত্যিই এক বীরত্বগাথা। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাচারকারী সিজুলকে স্থানীয়রা আটকে রেখে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত এই চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: