জামায়াত আমীরের ‘বেফাঁস’ মন্তব্য, ফেসবুকে কড়া জবাব এমপি এমরানের

সিলেটে রাজনৈতিক উত্তাপ

জামায়াত আমীরের ‘বেফাঁস’ মন্তব্য, ফেসবুকে কড়া জবাব এমপি এমরানের

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৫/০৬/২০২৬ ১৫:৫২:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

জ্বালানি তেল-গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সিলেটে আয়োজিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের দেওয়া একটি বক্তব্য এবং এর প্রেক্ষিতে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পাল্টা ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা সিলেট অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের দুই প্রধান বিরোধী শক্তির মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য এবং বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন, যা রাজনৈতিক মহলে ‘বেফাঁস মন্তব্য’ হিসেবে গণ্য হয়।


বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকালে মাওলানা হাবিবুর রহমান নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন।


মাওলানা হাবিবুর রহমানের দুঃখ প্রকাশের পরও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় থামেনি। আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ ও কড়া স্ট্যাটাস দেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

পোস্টে তিনি লেখেন-


"সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান সাহেব যে ভাষায় সরকারকে আক্রমণ করেছেন, এটা শুধু ন্যক্কারজনকই নয়, তাদের দলের নেতাদের পুরনো মুখোশ খুলে দিয়েছে। যদিও তিনি এখন দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু এই বক্তব্য থেকে তাদের ভেতরে কী পরিমাণ হিংসা এবং প্রতিহিংসা কাজ করছে তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। সরকার যদি বেজন্মা হয়, তবে তারাও বেজন্মা।"


তিনি জামায়াত নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও লেখেন:  "ভাবতে অবাক লাগে একটি দলের জেলা আমীর এই ধরনের বক্তব্য কীভাবে দিতে পারেন? শুধু তিনি নন, ইদানীং তাদের প্রতিটি নেতার মুখের ভাষা শুনলে গা শিউরে ওঠে। একজন তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করেছেন এবং তাদের আমীর সারাজীবন বেঁচে থাকার গ্যারান্টি দিয়েছেন।"


সহযোগী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, "এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্বের দুর্বলতা খুঁজে সেখান থেকে ফায়দা লুটের চেষ্টায় তারা লিপ্ত। প্রয়োজনে এদেরকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে বয়কট করুন।"


একদিকে জামায়াত আমীরের বিতর্কিত বক্তব্য, অন্যদিকে তাঁর জবাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তথা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি ‘বয়কটের’ ডাক—এই দুইয়ে মিলে সিলেটের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করছেন।


সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, জনদুর্ভোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল ইস্যু থেকে সরে গিয়ে দলগুলোর এমন কাদা ছোড়াছুড়ি ও আক্রমণাত্মক ভাষা পরিহার করা উচিত।

তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad