তৎপরতা নেই পুলিশের!
কমলগঞ্জে এক রাতে মসজিদ-মাজারসহ ৫ স্থানে চুরি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় চোরের উপদ্রব চরম আকারে ধারণ করেছে। এবার একই রাতে এক সাংবাদিকের ফার্মেসি, দুটি দোকান এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজারের দানবাক্সসহ ৫টি স্থানে দুঃসাহসী চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাঘমারা ও বালিগাঁও এলাকায় এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।
একই রাতে একই এলাকায় পরপর ৫টি চুরির ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চোর চক্রটি বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাঘমারা ও বালিগাঁও এলাকার ৫টি স্থানে হানা দেয়। সাংবাদিকের ফার্মেসি: বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা, স্থানীয় সাংবাদিক ও পল্লী চিকিৎসক আবদুল কাইয়ুম কামরুলের মালিকানাধীন ফার্মেসির তালা ভেঙে ভেতরে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান ওষুধপত্র লুটে নেয় চোরেরা। আমির মিয়ার দোকান: পশ্চিম বাঘমারা এলাকার ব্যবসায়ী আমির মিয়ার দোকান থেকে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দানবাক্স: একই রাতে বাঘমারা মাদ্রাসার দানবাক্স এবং পশ্চিম বাঘমারা জামে মসজিদের দানবাক্সের তালা ভেঙে ভেতরের সব টাকা লুটে নেওয়া হয়।
গরমশাহ এর মাজার: এছাড়া একই রাতে বালিগাঁও এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী গরমশাহ এর মাজারের দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে।
উপজেলায় চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কমলগঞ্জে প্রায় প্রতি রাতেই নিয়মিতভাবে কোনো না কোনো এলাকায় একাধিক দোকানপাট কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আলিম বলেন, "এলাকায় চোরের উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে এখন ধর্মীয় উপাসনালয়ও নিরাপদ নয়। অধিকাংশ চুরির ঘটনায় সিসি ক্যামেরার স্পষ্ট ফুটেজ থাকার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যত কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ফলে চোরেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।"
একই রাতে ৫টি দুর্ধর্ষ চুরির পর ভুক্তভোগীরা চরম ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, কমলগঞ্জে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই চোর চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসন যেন অবিলম্বে রাত্রিকালীন টহল জোরদার এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: