দিরাইয়ে ইউপি সদস্য ওয়াদুদ ও ফয়সালের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

আতঙ্কে ভুক্তভোগীরা

দিরাইয়ে ইউপি সদস্য ওয়াদুদ ও ফয়সালের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী

সুহানুর রহমান সুমন, নিজস্ব প্রতিনিধি, দিরাই

১১/০৬/২০২৬ ১৫:১৫:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসুদপুর গ্রামে বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী ও ফয়সল চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, চুরি, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করায় সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দিরাই-শাল্লার সাবেক সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন ওয়াদুদ ও ফয়সল। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ওয়াদুদ চৌধুরীর ছেলে রৌশন চৌধুরী দিরাই-শাল্লা এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি ও মাদক ব্যবসার একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই বাহিনীতে যুক্ত হন এলাকার আরেক দাঙ্গাবাজ নুরুজ্জামানের ছেলে মামুন রশীদসহ একদল সন্ত্রাসী। এই চক্রটি প্রতিনিয়ত মাদক সেবন করে দিরাই-মদনপুর সড়কে সাধারণ মানুষের সাথে মাতলামি ও উশৃঙ্খল আচরণ করে আসছিল। তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই চলতো অমানবিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি।


চলতি বছরেই মকসুদপুর গ্রামে দুই দফা বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রতিটিতেই ওয়াদুদ মেম্বার ও ফয়সালের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ওয়াদুদ মেম্বারের নির্দেশে সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান ও তার বাহিনী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্থানীয় আকিল ও তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়।


এছাড়া, গত ৪ মে (২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে আজাদ রেজা চৌধুরীর ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। ওয়াদুদ মেম্বারের হুকুমে রৌশন, আলমগীর, কায়সার, কয়েস ও মামুন ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও পাইপ নিয়ে এই হামলা চালায়। এতে আজাদ রেজা চৌধুরীর মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং বাম হাত ও বাম পায়ের একাধিক স্থান ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনায় সিলেটে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


হামলার শিকার আকিলের পরিবারসহ আরও কয়েকটি অসহায় পরিবার জানায়, হামলা চলাকালে রৌশন চৌধুরীর অনুসারী আলমগীর, কয়সর ও মামুন তাদের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে ফ্রিজ ও বিদ্যুতের মিটারসহ প্রায় আধা ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।


নাম না প্রকাশের শর্তে এক ভুক্তভোগী নারী বলেন-ওয়াদুদ, ফয়সাল ও নুরুজ্জামানের লোকজনের কারণে আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা সবসময় মারামারি ও দাঙ্গা বাধিয়ে রাখে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তারা রামদা, সুলফি নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।


অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মকসুদপুর শাহী ঈদগাহে মাটি কাটার জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। মকসুদপুর গ্রামের সচেতন মহল এই ঈদগাহের মাটি ভরাটের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দিরাই উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়েই তিনি সংযোগটি কেটে দেন।


এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে মকসুদপুর গ্রামে স্থানীয় বিরোধ ও ঝামেলা চলছে। আমরা ওই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় সজাগ রয়েছে।"

তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: