প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সহায়তা বিতরণের অভিযোগে মানববন্ধন
প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা বিতরণের অভিযোগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে ‘সচেতন কুরবাননগর ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অনেক কৃষকের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বক্তাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু বিএনপি নেতা-কর্মী নিজেদের স্বজন ও দলীয় লোকজনের নাম সহায়তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা এ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এম এ বারী সিদ্দিকী, মাওলানা মাসুক, শাহিনুর রহমান শাহিন, কবি মাজহারুল ইসলাম, ওবায়দুল হক, সুহেল আহমদ, নূর আলম, পরান, মামুন, শফিকুল ইসলাম ও সালমানসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। মানববন্ধন শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সচেতন নাগরিকরা। দাবিগুলো হলো—১. বিতর্কিত তালিকা বাতিল করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নতুন তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।২. ত্রাণ বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।৩. ইউনিয়ন পরিষদের সব সেবা ও নির্ধারিত ফি-সংক্রান্ত তথ্য নোটিশ আকারে প্রকাশ করতে হবে।৪. এলাকার সব উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ৫. সরকারি অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা উন্মুক্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ৬. ইউনিয়নের সকল কাঁচা রাস্তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। ৭. জন্মনিবন্ধনসহ সকল নাগরিক সেবা প্রদানে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ৮. বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সব ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বন্ধ করতে হবে। ৯. ইউনিয়ন অফিসে প্রচলিত ‘বালতি প্রথা’ বাতিল করে ডিজিটাল মিটারের মাধ্যমে চাল ও অন্যান্য সামগ্রী পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে। ১০. ইউনিয়ন পরিষদে রসিদ ছাড়া যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লতিফুর রহমান রাজু/ তানজুমা তাবাসসবুম
মন্তব্য করুন: