উপাচার্য বদল ও জেলা সদরে সুপ্রবি ক্যাম্পাসের দাবিতে ১০ দিনের আলটিমেটাম

উপাচার্য বদল ও জেলা সদরে সুপ্রবি ক্যাম্পাসের দাবিতে ১০ দিনের আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১২/০৬/২০২৬ ১৪:২৬:৪২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে স্থাপন এবং বর্তমান উপাচার্যের (ভিসি) পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।


আজ শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টায় শহরের শহীদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।


সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রবিউল লেইছ রোকেসের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্যসচিব মুনাজ্জির হোসেন সুজন।


লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর বৃহত্তর স্বার্থের বাইরে গিয়ে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় (শান্তিগঞ্জ) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের যাতাকলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সুনামগঞ্জও সুষম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জেলা শহরকে একপ্রকার 'মৃত শহরে' পরিণত করার প্রশাসনিক অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল। পরবর্তীতে জেলা সদরের আশপাশে সকলের সুবিধাজনক স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই দাবিতে সংহতি প্রকাশ করলেও নির্বাচিত সরকার আসার পরও তা সুরাহা হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমান উপাচার্য জেলা সদরবিমুখ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সিন্ডিকেট গঠন করতে নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি সুনামগঞ্জ সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) কিংবা জেলার সর্বজনশ্রদ্ধেয় কোনো শিক্ষাবিদকেও এই সিন্ডিকেটে রাখা হয়নি। জেলা সদরের বাইরে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার ফাইল অনুমোদন করানোর জন্য উপাচার্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া তিনি যেকোনো সময় বাদ পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে বর্তমানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চালাচ্ছেন।


আন্দোলনকারী নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য বিগত অনির্বাচিত (অন্তর্বর্তী) সরকারের আমলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা মনোনীত। তাঁর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার ৮০ শতাংশই ওই নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোকজন এবং তারা সিলেট বিভাগের বাইরের বাসিন্দা। এছাড়া ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ঘন ঘন অনুপস্থিতি এবং বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর সার্বক্ষণিক যোগাযোগের বিষয়টিরও সমালোচনা করা হয়।


লিখিত বক্তব্যে মুনাজ্জির হোসেন সুজন বলেন, "সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন সিলেট সদর উপজেলাতেই হয়েছে, আমরাও জেলার নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জ জেলা সদরেই চাই। প্রথম ধাপে আমরা বিতর্কিত এই উপাচার্যের পরিবর্তন এবং তাঁর মেয়াদে হওয়া সব স্বজনপ্রীতির নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানাচ্ছি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে উপাচার্যকে পরিবর্তন করা না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।"


এই দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক তৈয়বুর রহমান বাবুল, আবু নাছার আহমদ, লেখক সুখেন্দু সেন, আইনজীবী এনাম আহমদ, সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব বদরুল কাদির শিহাব ও রাজু আহমেদ প্রমুখ। তারা সুনামগঞ্জবাসীর এই ন্যায্য আন্দোলন সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন: