সাত মিনিটের ধাক্কা সামলে শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে ইংল্যান্ড। নকআউট পর্বের ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সাত মিনিটেই গোল হজম করেছিল তারা। তবে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সপ্তম মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা একটি ক্রস স্পেন্সের চোখ এড়িয়ে পৌঁছে যায় ব্রায়ান সিপেঙ্গার কাছে। কাছের পোস্ট দিয়ে জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড।
গোল হজমের পর ইংল্যান্ডের খেলায় দেখা দেয় অস্থিরতা। রক্ষণে ভুল, পাসে অসংগতি এবং আক্রমণে সিদ্ধান্তহীনতা তাদের চাপে ফেলে। তবু বল দখলে এগিয়ে ছিল তারা। রাশফোর্ড, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেন একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি দুর্দান্ত সব সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। নিশ্চিত গোল হতে পারত এমন অন্তত চারটি প্রচেষ্টা তিনি একাই রুখে দেন।
বিরতির পরও দীর্ঘ সময় বদলায়নি স্কোরলাইন। বিশ্বকাপে বিরতিতে পিছিয়ে থেকে কোনো ম্যাচ জেতার রেকর্ডও ছিল না ইংল্যান্ডের। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ২০ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
কোচ টমাস টুখেলের কৌশলী বদলি এবং নতুন পরিকল্পনায় ইংল্যান্ডের আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। শেষ দিকে ডিহাইড্রেশন বিরতিকেও কার্যকরভাবে কাজে লাগান তিনি। নতুন খেলোয়াড়দের আগমনে ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়।
৭৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের তৈরি করা সুযোগ থেকে হ্যারি কেইন নিখুঁত হেডে সমতা ফেরান। সেই গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ইংল্যান্ড, আর চাপে পড়ে যায় কঙ্গো।
সমতায় ফেরার মাত্র ১১ মিনিট পর আবারও আঘাত হানেন কেইন। গর্ডনের পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে এক টাচে জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।
চলতি বিশ্বকাপে এটি হ্যারি কেইনের পঞ্চম গোল। আর বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৩-তে। তবে এই ম্যাচে তার দুই গোলের মূল্য ছিল আরও বেশি। কারণ এই জয়ে শুধু শেষ ষোলোর টিকিটই নিশ্চিত হয়নি, বিদায়ের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে থাকল ইংল্যান্ড।
এই ম্যাচে টমাস টুখেলও দেখিয়েছেন, সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত একটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। আর হ্যারি কেইন আবারও প্রমাণ করলেন, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
সজল আহমেদ
মন্তব্য করুন: