গুচ্ছ কবিতা
হাবিব হেলাল এর ‘ভাটার মাছ ও অন্যান্য কবিতা’
ভাটার মাছ
•
কেউ আটকায়নি আমাকে
জল নেমে গেছে — আমিই রয়ে গেছি তলায়
পাহারা দিই নিজের কাদা
নিজেই সেই কাদায় গাঁথা
আকাশ নেই। রোদ নামলে দেখা যেত
শুকনো খালে একা একটা মাছ, ফুলকা খোলা
জল ফিরলে বাঁচি
জল ফিরলেই ভেসে উঠি — মরা।
কবি
•
আমি এক সিরিয়াল কিলার
একে একে খুন করি মুখ
যাকে ভালোবাসি বলেছিলাম, তাকেও
লাশ লুকাই কবিতার নিচে
ভিড় জমে। বাহবা পড়ে
তারপর নিজেকে বলি কবি।
অপঠিত ভাঁজ
•
চন্দ্রমল্লিকা ফোটেনি কোথাও
তবুও
আঁজলায় জমে
জ্যোৎস্না
ধুয়ে যায় অপঠিত ঠোঁট
আকাশ এক নীল ক্ষত
হাওড়ের বুক চিরে নামে
সন্ধ্যা
পুরোনো চিঠির ভাঁজ, খোলা হয় না আর
একই নদী, দুই নাম
একটি আমার
একটি বাউলের অচিন গলা
উত্তোলিত অঙ্গুলি
•
তর্জনী উঠল —
ব-দ্বীপ মাথা তুলল;
স্রোত বাঁক নিল ইশারায়
মোহনা পেল
কণ্ঠে বজ্র —
গড়াল মাঠে,
ধানের শিকড়ে, নদীর গলায়
পলিতে জমল কাঁপন
যে খাড়া হয়
বজ্র চেনে তার নগ্ন শির;
আঙুল বিদ্ধ হয় নিজের ডাকে
শরীর নামে মাটিতে
যাকে সোজা হতে শিখিয়েছিল
জল সরলে জাগে
ডুবো নৌকার মাস্তুল;
ভোরের কুয়াশা ভাগ হয়
পাথর-আঙুলের দু'পাশে।
গলন্ত নদী
•
গলন্ত লোহা—নদী
কামারের চোখে মজুরি
স্ফুলিঙ্গ-ঝলক
ঝাঁক ঝাঁক আগুন মাছ
অনন্ত জাগরণে
আমিও
হাতুড়ির শব্দে জ্বলি...
________
কবি পরিচিতি : হাবিব হেলাল। জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লামাসানিয়া গ্রামে। সম্পাদনা করেন শিল্পসাহিত্যের ছোটোকাগজ ‘বাঁশতলা’। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কুড়ানো সুখ’ (কবিতা), ‘একাত্তরের যুদ্ধবীর’ ও ‘১৯৭১: যুদ্ধজয়ীদের কথা’ (প্রবন্ধ), স্বপ্ন শতদল (যৌথ কাব্য), প্রেরণার বাতিঘর (স্মারক গ্রন্থ)
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: