দিরাইয়ে ৫০০ টাকার জন্য তরুণকে বিষ খাইয়ে হত্যা

প্রধান আসামি সিলেটে গ্রেপ্তার

দিরাইয়ে ৫০০ টাকার জন্য তরুণকে বিষ খাইয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০৪/০৭/২০২৬ ১৪:০৯:৫৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মাত্র ৫০০ টাকা বকেয়া নিয়ে বিরোধের জেরে জয় মহাপাত্র (২০) নামের এক তরুণকে দোকানে আটকে রেখে বিষ খাইয়ে হত্যার মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি আমিরুল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯।


গতকাল ৩ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সিলেটের শাহপরাণ থানাধীন শিবগঞ্জ বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আমিরুল ইসলাম সুনামগঞ্জের দিরাই থানার বুরহানপুর গ্রামের মৃত হাজী মদরিছ মিয়ার ছেলে।


মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত জয় মহাপাত্র দিরাই উপজেলার ভাঙ্গাডহর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি আসামি আমিরুলের কাছ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায় একটি পুরোনো মোবাইল ফোন কেনেন। ওই সময় জয় নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৫০০ টাকা পরে দেওয়ার কথা বলেন। গত ৮ জানুয়ারি সকালে ভাঙ্গাডহর এলাকার একটি কালভার্টের পাশে জয়ের দেখা হলে আমিরুল বকেয়া টাকা দাবি করেন। জয় তাৎক্ষণিক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমিরুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর হাত থেকে মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন এবং সিম কার্ডটি ফেরত নেওয়ার জন্য বিকেলে নিজের মুদির দোকানে আসতে বলেন।


র‍্যাব জানায়, ওই দিন বিকেলে জয় তাঁর সিম কার্ডটি আনতে আমিরুলের মুদির দোকানে গেলে আমিরুল দোকানের সাটার বন্ধ করে দেন। প্রথমে জয়কে মারধর করা হয় এবং পরে পানির সাথে তীব্র বিষ মিশিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক পান করানো হয়। বিষপ্রয়োগের পর সিম কার্ডটি দিয়ে জয়কে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাড়িতে ফিরে জয় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাঁকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৯ জানুয়ারি সকালে জয় মহাপাত্র মারা যান।


এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান আমিরুল। ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আসামিকে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব-৯।


র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া উইং জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯-এর সুনামগঞ্জ ক্যাম্প এবং সিলেট সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল সন্ধ্যায় ছদ্মবেশে থাকা একমাত্র আসামি আমিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দিরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রীতম দাস/ তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad