সিলেটে স্কুল শিক্ষিকার রিল নিয়ে সামাজিক ট্রল, সহকর্মীদের অভিনব প্রতিবাদ

সিলেটে স্কুল শিক্ষিকার রিল নিয়ে সামাজিক ট্রল, সহকর্মীদের অভিনব প্রতিবাদ

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

২৬/০৭/২০২৬ ১২:২৭:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রধান শিক্ষিকার স্বাভাবিক একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কুরুচিপূর্ণ ট্রল ও নেতিবাচক সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর প্রতিবাদে এবার অভিনব এক আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষিকারা। সমালোচনার মুখে পড়া ওই শিক্ষিকার ব্যবহৃত গানের সঙ্গেই ‘রিল’ (স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও) তৈরি করে তাঁর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন সহকর্মীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবন, রুচি ও বিনোদনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

ঘটনার শুরু সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার একটি টিকটক ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওটিতে তাঁকে ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি দিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখা যায়। কিন্তু ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী তাঁর পোশাক, শালীনতা ও অভিব্যক্তি নিয়ে আপত্তিকর ও অপমানজনক ট্রল শুরু করে। বিষয়টি সাইবার বুলিংয়ের পর্যায়ে পৌঁছালে সচেতন মহল ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে এবং ট্রলকারীদের জবাব দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষিকারা একই গান ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা শুরু করেছেন। কর্মস্থল কিংবা ব্যক্তিগত পরিসরে ধারণ করা এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করে তাঁরা লিখছেন, ‘ব্যক্তিগত রুচি বা আনন্দ প্রকাশের কারণে কাউকে হেনস্তা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও লেখকদের মতে, আইন বা নৈতিকতা ভঙ্গ না করলে কেবল পোশাক কিংবা ভঙ্গিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত রুচির বিচার করা অন্যায়। শিক্ষাব্যবস্থার মূল সংকটগুলো নিয়ে আলোচনা না করে একজন শিক্ষকের সাধারণ একটি বিনোদনমূলক ভিডিও নিয়ে সমালোচনা করাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সাধারণ শিক্ষিকাদের একাংশ মনে করেন, এই ডিজিটাল প্রতিবাদ প্রমাণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষকেরাও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন। প্রতিবাদী শিক্ষকদের একটাই দাবি—একজন শিক্ষককে মূল্যায়ন করা উচিত তাঁর পাঠদান, আদর্শ ও দায়িত্ববোধের নিরিখে; ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সাধারণ বিনোদনের মাধ্যমে নয়।

মীর্জা ইকবাল/ রত্না বাউরি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad