চুয়েট ক্যাম্পাসে পুকুরে ডুবে মৌলভীবাজারের দুই শিক্ষার্থী নিহত

চুয়েট ক্যাম্পাসে পুকুরে ডুবে মৌলভীবাজারের দুই শিক্ষার্থী নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

১৩/০৮/২০২৬ ০২:১৯:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী। বুধবার (১২ আগষ্ট) বেলা দেড়টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িই মৌলভীবাজারে।  

নিহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (EEE) বিভাগের শান্ত দেব এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (CSE) বিভাগের অর্ণব দত্ত। অর্ণব মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট এলাকার বাবুল দত্তের একমাত্র পুত্র। অন্যদিকে শান্ত দেবের বাড়িও জেলার কামালপুরের আব্দালপুর এলাকায়।

ক্যাম্পাস সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে শান্ত ও অর্ণব তাদের বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। সাঁতার কাটার একপর্যায়ে দুজনেই হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যান।

তাদের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক ও টেলিকমিউনিকেশনস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, "ওরা ডুবে যাওয়ার পর আমরা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করি। একজনকে ঘটনার ৮-১০ মিনিট পর পানি থেকে তোলা সম্ভব হলেও, অপরজনকে উদ্ধার করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লেগে যায়।"

উদ্ধারের পরপরই দুজনকে প্রথমে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

অর্ণব দত্ত বাবা বাবুল দত্তের একমাত্র পুত্র। ছেলেকে ঘিরে পরিবারের যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন ছিল, তা চুয়েটের পুকুরের পানিতে নিমিষেই তলিয়ে গেল। দুই সম্ভাবনাময় তরুণের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ। সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা নিহতদের পরিবারকে খবর দিয়েছি। হাসপাতালে আমরা তাদের পাশেই আছি। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এই একই পুকুরে শিক্ষার্থীদের ডুবে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ২৮ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা এই পুকুরটিতেই ডুবে মারা যান।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একই স্থানে আবার দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অর্ণব সাহার মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুকুরটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া এবং পাড় বড় করাসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় আজ আবারও ঝরে গেল মৌলভীবাজারের দুই প্রদীপ্ত প্রাণ।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad