নদী ও পরিবেশের চরম ঝুঁকি
সিলেটে থামছে না বালুখেকোদের তাণ্ডব: একদিনে ৪ উপজেলায় অভিযান
সিলেট বিভাগে নদী ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই দিনে বিভাগের চার উপজেলায় (কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, শ্রীমঙ্গল ও তাহিরপুর) অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১২ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ, কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং পরিবহন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, সেতু ও তীরের মাটি ধসে নদীভাঙন তীব্র রূপ নিচ্ছে এবং সামগ্রিক জলজ পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কোম্পানীগঞ্জ: ধলাই সেতুর নিচ থেকে ১২,৫০০ ঘনফুট বালু জব্দ
সিলেটের দীর্ঘতম ধলাই সেতু রক্ষায় সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ২টায় সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার ও থানার ওসি (তদন্ত) সুজন চন্দ্র কর্মকার এর নের্তৃত্বে ধলাই সেতুর পূর্ব পাড় থেকে ১২,৫০০ ঘনফুট জব্দ করা বালু তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়ভাবে নিলামে বিক্রি করা হয়।
সেতুর দুপাশের একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে এই বালু কেনাবেচা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, সেতু রক্ষায় রবিবার রাতেও অভিযান চালানো হয়েছিল এবং এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জৈন্তাপুর: রাংপানী ছড়ায় পেলোডার দিয়ে বালু উত্তোলন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সোমবার দুপুর ১টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার ৪ নম্বর ঘাট এলাকার রাংপানী নামক স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
এ সময় প্যালোডার ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করাকালে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম ও জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী পেলোডারের মালিককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরিবেশ ও নদীর ভারসাম্য রক্ষায় অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
শ্রীমঙ্গলে পৃথক দুই অভিযানে ১ জনের কারাদণ্ড, অন্যত্র অভিযান পরিচালিত
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
উপজেলার পশ্চিম ভাড়াউড়া-রূপশপুর চিড়িয়াখানা রোডে অভিযান চালানোর সময় উপস্থিত টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়।
তাছাড়া মৌলভীবাজার রোডের ৫ নম্বর পুল এলাকায় পৃথক অভিযানে মো. ছাতির মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শান্তিপুর নদীতে বাল্কহেড ও নৌকা জব্দ, ৪ জনের কারাদণ্ড
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিক এর নের্তৃত্বে এ সময় ১টি বাল্কহেড আটক করে পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং অবৈধ বালু বহনে ব্যবহৃত ৪টি নৌকা ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়।
আটক চারজনকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী প্রত্যেককে ৩০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সেতুগুলোর স্থাপত্য কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে এবং পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। সিলেট বিভাগের প্রতিটি উপজেলার প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: