সিলেটে ট্রিপল মার্ডার ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটির

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটির

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

৩১/০৮/২০২৬ ২০:০৩:১৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট নগরের রায়নগরে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে ‘ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি’। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ২০ বছর ধরে এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। আবদুস সাত্তার এ-সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ভূমি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন।

কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আবদুস সাত্তার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী এবং কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলার বাদী ছিলেন। মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রায়নগরে সাত্তারের বাসায় গিয়ে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাকে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার একটি মোবাইল রেকর্ডও রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, গত বছরের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের হামলায় আবদুস সাত্তার ও তৌহিদুল ইসলাম আহত হন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইম্পালস টাওয়ারের জমি নিয়ে ৫৬৪/৯৬ নম্বর আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে ১৮৫২২/২০০৬ ও ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর দলিল অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আবদুস সাত্তার (৮২), সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিবেশী বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করা হয়। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পুলিশ।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad