ইউপি সদস্যের অসহযোগীতা
ওসমানীনগরে উত্তরাধিকার সনদ বঞ্চিত ভুক্তভোগীর অভিযোগ
জাতীয় পরিচয় পত্রসহ সকল তথ্যাদি থাকার পরও উত্তরাধীকার সনদ বঞ্চিত হয়েছেন এক ভুক্তভোগী। উপরন্তু প্রকৃত উত্তরাধীকার না হলেও ভুক্তভোগীর সৎ ভাইকে সনদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেছেন। ভুক্তভোগীর নাম ফাতেমা আক্তার রুজি। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার ৫নং গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারাই গ্রামের বাসিন্দা।
ফাতেমা আক্তার রুজির অভিযোগ-ইউপি সদস্যের অসহযোগীতার কারণে তাঁর পিতা মৃত আব্দুল হান্নানের সম্পত্তি বণ্টনে উত্তরাধিকার হিসেবে বঞ্চিত হচ্ছেন এমনকি প্রতারণার মাধ্যমে তাঁকে উপেক্ষা করে তাঁর সৎভাই আব্দুল হাকিমকে একক মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
লিখিত আবেদনে ফাতেমা আক্তার উল্লেখ করেন, স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শাহিন মিয়া ও সদস্যা মনোয়ারা বেগম দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাঁর বিষয়টি অযথা ঝুলিয়ে রেখেছেন। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সৎভাই আব্দুল হাকিমের সুসম্পর্ক থাকায় জনপ্রতিনিধিরা তাঁর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নারী হওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বরং সামাজিকভাবে ছোট করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তাঁর পিতার সম্পত্তির দলিলে সৎভাই আব্দুল হাকিম একক মালিকানা ভোগ করছেন বলেও দাবি করেন ফাতেমা আক্তার।
উত্তরাধিকার সনদ পাওয়ার লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইউনিয়ন পরিষদে পৃথক আবেদন দাখিল করেছেন। আবেদনে তিনি আইনসঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। meanwhile গোয়ালাবাজার ইউনিয়ন প্রশাসক ড. রাজিব চক্রবর্তী বলেন, “গত এক মাস আগে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।” তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিন মিয়া বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে কোনো কাগজপত্র আসেনি।” তাঁর বক্তব্যে গরমিল লক্ষ্য করা যায়।
ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করেন, ভোটার আইডি কার্ড থাকা সত্ত্বেও ইউপি সদস্যরা তাঁকে উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: