হবিগঞ্জের এএসআই ইলিয়াস বির্তকের মধ্যেই আরেক এএসআই এর ঘুষ গ্রহণ

হবিগঞ্জের এএসআই ইলিয়াস বির্তকের মধ্যেই আরেক এএসআই এর ঘুষ গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৬/১০/২০২৬ ১৭:৩৩:৩৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের ঘুষ গ্রহণের বির্তকিত মন্তব্যের জের কাটতে না কাটতেই আরেক এএসআই অতনু বণিকের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে সরাসরি ঘুষ গ্রহণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিও প্রকাশ পর জেলা পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে আর সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। 

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিও ঘুরছে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে ওই ব্যক্তি ও এএসআই অতনু ভৌমিককে বলতে শোনা যায়ঃ-  

অতনু ভৌমিক: আপনার কথা আমি রাখলাম। দয়া করে কত দিছেন?

ওই ব্যক্তি : ৬ হাজার টাকা। ৬ হাজার আর ৪ হাজার মোট ১০ হাজার টাকা দিছি।

অতনু ভৌমিক:  আপনি কত রাখছেন? ওই যে তোমার এই টোটাল দেওয়ার কথা ছিল না?

ওই ব্যক্তিঃ- না, ১০,০০০ টাকা। আপনার মুখ দিয়ে যেটা কইছেন, আমিও কইছি ১০,০০০ টাকা।

অতনু ভৌমিক : ঠিক আছে, আর ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে দাও আমাকে। আমি বলি, আসামি নিয়ে যাওয়ার সময় তুমি আমাকে খরচের টাকা দিবা না? আসামি গাড়িতে যাওয়ার সময় খরচের টাকা দিবা না ? সিএনজি ঠিক করো আজকে। এখন ফোন দাও, এখনই ফোন দাও। তুমি আজ রাতে ১০০% শিওর করবা।

ওই ব্যক্তি: - শিওর আমি করছি।

অতনু ভৌমিক:  রাতে কয়টার দিকে আসব আমি?

ওই ব্যক্তি :  টোটালে আমি কইছি ১০,০০০ টাকা দিমু।

অতনু ভৌমিক:  আর কিছু করার নাই...

ওই ব্যক্তি আপনি কইছেন ১০,০০০ টাকা দিতাম। আমি আরও কম বলছিলেন, কিন্তু আমি ১০,০০০ টাকা দিমু কইছি।

অতনু ভৌমিকঃ- শেষ করি এখন, আমি তোমার থেকে তো বেশি কিছু চাই নাই। বাড়তি কিছু চাই নাই। আসামি নিয়ে যাওয়ার খরচটা দিবা। ফোন দিছ সিএনজিওয়ালাকে?  আজকে রাতে আমরা কথা বলব।

ওই ব্যক্তি : ১,০০০ টাকা লাগে না সিএনজি ভাড়া?

অতনু ভৌমিক:  পাম্পের নম্বর আছে কারও কাছে? ৩২৪ ধারায় যদি থানায় এফআইআর হয়, কালকেই জামিন পেয়ে যাবে। আর ৩২৫, ৩০৬ এ এই মামলা মিনিমাম ৫-৬ বছর ডিল করতে হবে। আমি তো এরকম অফিসার না ভাই, ভুলভাল বোঝাতে পারব না। ধারণা করা হচ্ছে ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। 

ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিও সম্পর্কে জানতে উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অতনু ভৌমিক যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল (০১৮৩৬-৭১৫০৯০) ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপার ( মাধবপুর সার্কেল) মোঃ মাফিউর রহমান বলেন- বিষয়টি সর্ম্পকে অবগত আছি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান-  এরআগেও এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী পরিবার ওই সময় বিচার চেয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও অলৌকিকভাবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা না নেবার কারণে বারবার এমন অপরাধমূলক কাজে উৎসাহিত হচ্ছেন। 

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে  চুনারুঘাট থানার  উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াস হোসেনের ঘুষ গ্রহণের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। আর সমালোচনার মুখে রাতেই তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। 


ফয়সল চৌধুরী/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad