আবু সাঈদের কবরের সৌন্দর্যবর্ধন ও নতুন ঘর নির্মাণে কোটি টাকা বরাদ্দ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে তাদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সই করা অর্থ অবমুক্তির চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসময় তিনি এক কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে মোট এক কোটি ৯ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার মা-বাবার জন্য ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে পাঁচ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আবু সাঈদের পরিবার। একইসঙ্গে বরাদ্দকৃত অর্থে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার ঘরবাড়ি এবং কবরস্থানসহ নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন সঠিকভাবে কাজ হয়, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি শহীদ পরিবারের সদস্যদের।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘সরকার দেরিতে হলেও বাড়িঘর ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে, এজন্য আমরা খুশি। এই টাকা যেন সঠিকভাবে ব্যয় হোক, এটা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু আবু সাঈদের স্মৃতি নয়, আমরা চাই সরকার সব শহীদ পরিবারের পাশেও এভাবে এগিয়ে যাক।’
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ঘোষণা অনুযায়ী অর্থ ছাড় হয়েছে। এখন একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরি করবে। শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশনকে একটি ঐতিহাসিক মনুমেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে যা করণীয়, সেটি করতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। তার ঘোষণার পাঁচ দিনের মাথায় অর্থ ছাড় হয়েছে। সরকার চায় জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে ঘিরে চর্চা হোক গবেষণা হোক, যাতে করে মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যুগে যুগে অনুপ্রাণিত হয়।’
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: