দুর্গাপূজা ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ইসমাঈল জবিউল্লাহ, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরা উল্লেখযোগ্য দিক, পরবর্তীতে জাপান সফর প্রসঙ্গসহ দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ, দলীয় পুনর্গঠনের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তবে বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে দুর্গাপূজার সার্বিক পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে।
বৈঠক সূত্র মতে, দলের হাইকমান্ড থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে; এমনকি বিভ্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর কথা আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া দেশের ব্যাংকিং খাত, রেমিট্যান্সপ্রবাহ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কীভাবে আরও ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে নেতারা তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে থাকা জাতীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, এটা বিশেষ কোনো বৈঠক নয়; বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা-পর্যালোচনা করা হয়। কিভাবে পূজাকে সার্বজনীন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়। বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয় দেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ক্রমবর্ধমান মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে সরকারকে আরো কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সংকট, বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকার বিভাগগুলোর সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে। কিভাবে প্রত্যেকের মাঝে পূজার আনন্দ ভাগ করে দিতে পারি। নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেছেন কিভাবে সারা দেশে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় পূজামণ্ডপের পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা পালন করবেন।
দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা অবগত আছেন কিভাবে একটি মহল দেশের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের নীল নকশা করছে। কিভাবে অপপ্রচার অপকীর্তি এবং ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সরকার তার দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে। আমাদের দলের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকবেন। ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি করা হয়েছে।আমরা প্রত্যেকে সজাগ আছি।
প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জাতীয় কাউন্সিল ও কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনা কোনো বার্তা এখন পর্যন্ত আমার কাছে পৌঁছায়নি যেটা আপনাদের কাছে দিতে পারি।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: