সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখার আহ্বান জানালেন মন্ত্রী আরিফুল
জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে একটি উন্নত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সমগ্র বাংলাদেশে যুগে যুগে চলে আসা যে ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখাই বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল দায়িত্ব।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরীতে মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসবের সমাপনী ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর শ্রীহট্টে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ধর্মসভা, প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’ শীর্ষক একটি আকর্ষণীয় স্মারক সংকলনের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বক্তব্যে অতীতের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আমি যখন ওয়ার্ড কমিশনার ছিলাম, তখনও মহালয়ার এই পবিত্র আয়োজনে অংশ নিয়েছি। পরবর্তীতে মেয়র থাকা অবস্থাতেও এসেছি, আর আজ মন্ত্রী হয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম। পদবী যাই হোক, আজীবন সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই হলো বাংলাদেশের অন্যতম বড় শক্তি। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার সুন্দর পরিবেশ বজায় রেখে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণে সব ধর্মের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
মহালয়া উদযাপন পরিষদের সভাপতি জি.ডি. রুমুর সভাপতিত্বে এবং সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপক কুমার দাশ ও বাচিক শিল্পী শাশ্বতী পাল সোমার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী মহারাজ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্যসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
এর আগে উৎসবের অংশ হিসেবে সকালে পূজা চণ্ডীপাঠ, চিত্রাঙ্কন ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস সিলেটের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে উৎসব উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. নাসিম হোসাইনের উপস্থিতিতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। টানা তিন দিনব্যাপী সফলভাবে এ উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আয়োজক কমিটি।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: