নিষেধ উপেক্ষা করে ঢালাই, রাজনগরে ঝুলে পড়ল বিদ্যালয় ভবনের ছাদ
মৌলভীবাজারের রাজনগরে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছাদ ঢালাইয়ের ২৭ দিন পর সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঝুলে পড়েছে। ছাদটি ভবনের মূল কলাম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেলে ছাদের সাটারিং খোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মেদিনীমহল গ্রামে ১৯৯৮ সালে জনতা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে পুরোনো একটি ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীদের সংকুলান না হওয়ায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।
সম্প্রতি ভবন নির্মাণের কাজ পায় ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. খলীলুর রহমান এন্টারপ্রাইজ। কাজ শুরুর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাইয়ে বিম দেওয়া হয়নি এবং ছাদে প্রয়োজনের তুলনায় কম রড ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ছাদ ঢালাই না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেন। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই ঢালাই দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত শুক্রবার বিকেলে ছাদের সাটারিং খোলার সময় ছাদটি দেবে যায়। এ সময় ছাদটি ভবনের মূল কলাম থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভবন নির্মাণের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, মিস্ত্রিরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছিলেন। আমাকে বা প্রকৌশলীকে না জানিয়েই তাঁরা সিঁড়ির কক্ষের ছাদ ঢালাই দেন। প্রকৌশলী এটি ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আমি এসে ওই ঢালাই ভেঙে নতুন করে ঢালাই দিয়ে দেব।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সিঁড়ির কক্ষের ছাদে বিম না দিয়ে ক্যান্টিলিভার ছাদ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ছাদটি ঝুলে পড়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জয় কাপালী বলেন, আমাদের না জানিয়েই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দেখার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হয়।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, ঘটনাটি জানার পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন তাঁদের না জানিয়েই ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। ছাদটি ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: