তাহিরপুরে ১০০ টাকার গরমিল নিয়ে মারামারি, আহত ৭
Led Bottom Ad

তাহিরপুরে ১০০ টাকার গরমিল নিয়ে মারামারি, আহত ৭

নিজস্ব প্রতিনিধি, তাহিরপুর

২৩/০৯/২০২৫ ১৫:৪৪:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কাজের মজুরীবাবদ পাওনা একশো টাকার গরমিল নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দু'দফায় মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আশি ঊর্ধ্ব শ্বশুর ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ দু'পক্ষের অন্তত ৭জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের হলহলিয়া নামক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে প্রথম দফায় সকাল ৭টার দিকে ও দ্বিতীয়বার সকাল ১১টার দিকে এই মারামারির ঘটনা ঘটে। দু'পক্ষের একদিকে রয়েছে আব্দুর রহমান ও অপরপক্ষে নজির হোসেন। 


এ ঘটনায় আব্দুর রহমান এর পক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন, হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া (৭৮), চান্দু মিয়া (৮৩), কুদরত আলী (২৩) ও শাপলা বেগম (১৪)। তাঁদের মধ্যে সোনা মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে কুদরত আলী ও চান্দু মিয়াকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী শাপলা বেগমকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 


যোগাযোগ করা হলে আব্দুর রহমান এর চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তাঁর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কাজ করতেন একই গ্রামের আমির আলীর ছেলে নজির হোসেন (২০)। ঘটনার আগের দিন রোববার মজুরির একশো টাকার গরমিল নিয়ে আব্দুর রহমান ও নজিরের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। পরেরদিন সোমবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী একতা বাজারের দিকে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে গতিরোধ করে নজির ও তাঁর লোকজন আব্দুর রহমানকে মারধর করে। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের থামিয়ে দেন এবং বলেন যে, বিষয়টি বিকেলে বসে সমাধান করা হবে। কিন্তু এদিন সকাল ১১টার দিকে ফের মারামারিতে লিপ্ত হয় উভয়পক্ষ। এতে আব্দুর রহমান এর বাবা, ভাই, বোন ও চাচাসহ ৪জন আহত হন।


অপরপক্ষে নজির হোসেনের বড় ভাই শাহজাহান (৪০) জানিয়েছেন, ঘটনার সূত্রপাত টাকার গরমিল নিয়েই। তবে একশো না, শুনেছি আঠারশো টাকা। তাছাড়া ঘটনার আগের দিন রোববার রাতে আব্দুর রহমান এর বাড়িতে কাজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে সেখানে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রহমান নজিরকে মারধর করে। এর জের ধরেই পরের দিন সকালে দু'দফায় উভয়পক্ষ মারামারিতে লিপ্ত হয়। এতে নজিরের পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন একই গ্রামের হাসেন আলীর ছেলে আজিজুল (২৫), সাইফুল (১৫), মাফিজুল (১৮)। তাঁদের মধ্যে দুজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও একজন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আব্দুর রহমান এর পক্ষের গুরুতর আহত সোনা মিয়া আমার শ্বশুর হন।


উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হযরত আলী বলেন, আব্দুর রহমান এর বাবা সোনা মিয়ার অবস্থা গুরুতর। শুনলাম তাঁকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চিকিৎসার জন্য।


তাহিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad