রোপা আমন: মাধবপুরে ধান কাটার অপেক্ষায় উদ্ভাসিত কৃষকের মুখ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে চারদিকে এখন একটাই দৃশ্য—হলদে রঙের পাখির মতো দুলছে পাকা ধান। ক্ষেতজুড়ে বাতাস বয়ে গেলে অনুক্রমে ঢেউ খেলে ওঠে, যেন কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম তাকে হাসিমুখে স্বাগত জানাচ্ছে। রোপা আমনের এমন বাম্পার ফলন দেখে কৃষকরা এখন ঘরে তোলার দিন গুনছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই শুরু হবে ধান কাটা।
এ বছর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি। আকাশের আচরণ ছিল কৃষকবান্ধব, তাই ফলনও হয়েছে আশার চেয়েও ভালো। তবে কিছু কৃষকের জমিতে ছিডা আর পোকামাকড় আক্রমণ করে তাদের মনকে খানিকটা ব্যথিত করেছে—কিন্তু সারা মৌসুমের চিত্র ইতিবাচক।
মাধবপুরের চৌমুহনী, বহরা, আদাঐর, শাহজাহানপুর, বুল্লা, জগদীশপুর—সবখানেই এখন আনন্দের রঙ। সরেজমিনে চৌমুহনী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর ও কমলপুরের মাঠ ঘুরে দেখা গেল—সোনালি শীষে ভরা ক্ষেত, কৃষকের পরিশ্রমে জন্ম নেয়া স্বপ্ন যেন মাটির ঘ্রাণ ছড়িয়ে দিচ্ছে চারদিকে।
গোপীনাথপুর গ্রামের কৃষক বদু মিয়া হাসিমুখে বললেন,“প্রতি বছরই রোপা আমন করি, কিন্তু এ বছর সোনালি ফসল যেন একটু বেশিই দয়া করেছে। ফলন ভালো হয়েছে। সামনে যদি ধানের দামও ভালো থাকে, তাহলে আমাদের ঘরেও হাসি থাকবে।”
গোপালপুরের কৃষক ছালু রহমান জানান, “৬০০ শতক জমিতে আবাদ করেছি। বেশিরভাগ জায়গায় ফলন ভালো। যদিও কিছু জমিতে ছিডা ধরেছে—তবুও মোটের ওপর আল্লাহর রহমতে ভালোই হয়েছে।”
দুর্গানগরের আব্দুল হাকিম কিছুটা মন খারাপ করে বললেন,“২৪০ শতক জমিতে ধান করেছি। অর্ধেক জমিতে ছিডা আর পোকা ধরেছে। তবু বাকি অংশের ভালো ফলন আমাকে ভরসা দিচ্ছে।”
মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান,এ বছর উপজেলায় ১২,১১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে—গত বছরের চেয়ে আরও বেশি। লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৫,৫৬২ মেট্রিক টন উৎপাদন। সরকারি উদ্যোগে ৯৮টি প্রদর্শনী প্লটে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে লক্ষ্য ৫২ মেট্রিক টন। তিনি আরও বলেন, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় কিছু জমিতে ছিডা দেখা দিলেও সামগ্রিক ফলন কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো।
মাঠের দিকে তাকালে বুঝতে কষ্ট হয় না—মাধবপুরে এবার সোনালি শস্যের উৎসব। কৃষকের চোখে-মুখে তাই তৃপ্তির আলো।
তাহির আহমদ
মন্তব্য করুন: