নির্বাচন প্রশ্নে ভিন্ন দুই অভিন্ন রুপে
Led Bottom Ad

নির্বাচন প্রশ্নে ভিন্ন দুই অভিন্ন রুপে

তাহির আহমদ

২৩/১২/২০২৫ ২৩:২৬:১১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

নির্বাচন প্রশ্নে দুইজনই ছিলেন আপোসহীন। ফলে দল একই হলেও তাদের অবস্থান ছিল ভিন্ন। কেউ কাউকে ছেড়ে দেবার পাত্র নন । মিছিল-মিটিংয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে বিরাজ করছিল উত্তেজনা। কেউই দমে থাকার পাত্র নয়। ইতোমধ্যে দলীয় ভাবে দুইজনের একজনকে চূড়ান্ত করা হয় সিলেট -৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে। এই অবস্থায়ও অপর প্রার্থী থেমে যান নি। তিনি স্বতন্ত্র্য প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সবমিলিয়ে একই দলের মানুষ হলেও তাদের নির্বাচনকেন্দ্রীক তাদের অবস্থান ছিল ভিন্ন। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষা ও জল্পনার অবসান। ভেদাভেদ ভুলে এক মঞ্চে মিলিত হলেন বিএনপির দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী—আরিফুল হক চৌধুরী ও আবদুল হাকিম চৌধুরী। এর মধ্য দিয়ে সিলেট–৪ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ হলো নতুন গতি ও উদ্দীপনা।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট–৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন দুজনই। দল থেকে আরিফুল হক চৌধুরীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও মাঠ ছাড়েননি অপর প্রতিদ্বন্দ্বী, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবদুল হাকিম চৌধুরী। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছিল নানা আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত দলের বৃহত্তর স্বার্থে সব দ্বিধা ও দূরত্ব পেছনে ফেলে তাঁরা একসঙ্গে দাঁড়ালেন।


মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল কর্মীসভায় এই ঐক্যের দৃশ্য প্রকাশ পায়। গোয়াইনঘাট উপজেলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,“সিলেটবাসীসহ পুরো দেশ আজ আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হবে। এটি কেবল একজন নেতার ফেরা নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে এক নতুন মাইলফলক।”


তিনি আরও বলেন, সিলেট–৪ আসনের বিএনপি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। “হাকিম চৌধুরীসহ এই এলাকার আপামর মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমি একটি নতুন উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু করতে চাই। এই জনপদগুলো কতটা অবহেলিত, নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং আপনারা আমাকে বিজয়ী করলে, ইনশাআল্লাহ এক বছরের মধ্যেই পরিবর্তনের চিত্র দৃশ্যমান হবে।”


সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে আবদুল হাকিম চৌধুরী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,“আল্লাহ নিশ্চয়ই ভালোর জন্যই আমাকে প্রার্থী হওয়ার জায়গা থেকে সরিয়ে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও দলের মুরব্বিদের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি আজ স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ধানের শীষের বিজয়ের জন্য আমরা সবাই একযোগে কাজ করব।”


তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য ও দলের লক্ষ্য এক—সিলেট–৪ আসনের মানুষের উন্নয়ন এবং দেশের উন্নয়ন। “এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরিফুল হক চৌধুরী একজন পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নেতা। এই তিন উপজেলার মানুষের উন্নয়নই তাঁর ধ্যানজ্ঞান। উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি অনন্য।”


হাকিম চৌধুরীর এই ঘোষণার পর সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর সিলেট–৪ আসনে জাতীয়তাবাদী শক্তি এমন ঐক্যবদ্ধ রূপে দাঁড়িয়েছে।


সভায় সভাপতিত্ব করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, তাঁতীদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আহমদ দৌলতসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।


এক মঞ্চে দুই নেতার ঐক্যের বার্তা ঘিরে কর্মীসভাটি রূপ নেয় বিএনপির শক্তি প্রদর্শনের এক আবেগী সমাবেশে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এই ঐক্যের মধ্য দিয়েই সিলেট–৪ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ হলো নতুন মাত্রা ও আত্মবিশ্বাস।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad