মাধবপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের মালামাল চুরির অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১নং ধর্মঘর ইউনিয়নের আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অমান্য করে মালামাল বিক্রির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিকে অবহিত না করে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গত দুই দিন আগে বিদ্যালয়ের পুরাতন ৩০টি লোহার বেঞ্চ, ৪০টি কাঠের বেঞ্চ, ৪টি লোহার দরজা, ৪টি কাঠের দরজা এবং প্রায় ১৭৪ কেজি পুরাতন বই স্থানীয় একটি ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে দেন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন।
স্থানীয় বাজারের ভাঙারি ব্যবসায়ী মুসলিম মিয়া জানান, প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বিদ্যালয়ের দপ্তরি রিপনকে পাঠিয়ে তাকে বিদ্যালয়ে ডেকে নেন এবং মালামাল বিক্রির প্রস্তাব দেন। এরপর দরকষাকষির মাধ্যমে প্রতি কেজি গড়ে ৩৭ টাকা দরে তিনি সব মালামাল ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।
মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এস এম জাকিরুল হাসান বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেন, “এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রির কোনো বিধান নেই। অকেজো সরকারি মালামাল বিক্রির জন্য ইউএনওর নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রির নিয়ম আছে। এর ব্যত্যয় ঘটানো স্পষ্টতই চুরির শামিল। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: