হলফনামায় সম্পদের বড় ব্যবধান
হবিগঞ্জ–২ আসনে পাঁচ প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে বিএনপির ডা. জীবন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ–২ (বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ) আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় সম্পদ ও আয়ের বড় ধরনের পার্থক্য উঠে এসেছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের সম্পদের পরিমাণ এই আসনের বাকি পাঁচ প্রার্থীর মোট সম্পদের চেয়েও বেশি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের কৃষি, ব্যবসা, চাকরি ও অন্যান্য খাত থেকে বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৯৯ টাকা। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের আয় দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ১৫৪ টাকা। সব মিলিয়ে গত বছরে তাঁর পরিবারের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫৩ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের হিসাবে ডা. জীবনের নামে নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা, যানবাহন ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে সম্পদের মূল্য ১ কোটি ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৬৭৬ টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৮ লাখ ৯১ হাজার ৪৩১ টাকা। ফলে পরিবারের মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি ও অকৃষিজমিসহ অন্যান্য সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬০ টাকা। স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে আরও ৪২ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ টাকার স্থাবর সম্পদ। সব মিলিয়ে পরিবারের মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৯ লাখ ১৩ হাজার ১৬০ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনের মূল পেশা চিকিৎসক। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস ও ডিসিএম। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বাকি দুটি মামলার অভিযোগপত্র এখনো আদালতে দাখিল হয়নি।
এই আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ ব্যবসা ও শিক্ষকতা থেকে বাৎসরিক আয় ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯০ টাকা। হলফনামায় তাঁর কোনো মামলার তথ্য উল্লেখ নেই।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৩১ টাকা। একক নামে কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য দেননি। তবে স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের কথা উল্লেখ করেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমেদ রূপক হলফনামায় কোনো বাৎসরিক আয়ের তথ্য দেননি। তিনি হাতে নগদ ১ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ৭১ হাজার টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নোমান আহমদ সাদীক কৃষি ও ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় দেড় লাখ টাকা দেখিয়েছেন। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৯ লাখ টাকা। নিজের নামে চার ভরি স্বর্ণ থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন।
বাসদের প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদার বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন ৩৮ হাজার টাকা। স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন এই প্রার্থীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ১৫০টি কেন্দ্রের ৭১৯টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী ভোটকক্ষে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: