বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ সড়ক এখন মরণফাঁদ, বাড়ছে দুর্ঘটনা
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং–আজমিরীগঞ্জ সড়কটি বর্তমানে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানা-খন্দক। উঠে গেছে পিচ, পাথর, খোয়া ও বালি। এতে করে বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। সেগুলো সাময়িকভাবে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বানিয়াচং থেকে জলসুখা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অন্তত ৭৯টির বেশি বড় ভাঙন রয়েছে। প্রতিদিন ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন এই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গাড়ি সাইড দিতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহনগুলো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো আরও বড় হয়ে চলাচল সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সড়কটি ব্যবহারকারী এক যাত্রী বলেন, “এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন ভয় নিয়ে বের হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই করুণ অবস্থা দেখার যেন কেউ নেই।”
কলেজছাত্রী হেপি বলেন, “জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় এই সড়ক সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তাহসিন আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন অবস্থা থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েকদিন আগে একটি সিএনজি উল্টে গিয়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। এ ধরনের দুর্ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “২০১৭ সালে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও গত আগস্টে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কোনো ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করেননি। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করা হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং দুর্ঘটনার সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: