পাল্টা মামলায় আতঙ্কে পরিবার
দোয়ারাবাজারে আহাদ হত্যা: এক মাসেও রহস্য উদঘাটনে অগ্রগতি নেই
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী নরসিংপুর ইউনিয়নে আহাদ মিয়া (৪৪) হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত এই নৃশংস হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এখনো ব্যর্থ পুলিশ। উল্টো আসামিপক্ষের পাল্টা মামলার কারণে নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাগারপাড় গ্রামের মৃত আফতর আলীর ছেলে আহাদ মিয়াকে তার পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কালাটেক বস্তির একটি স্কুলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে ১৭ ডিসেম্বর বিএসএফ-বিজিবি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত শেষে আহাদ মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়।
পুলিশ ও ময়নাতদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট করে। এ ঘটনায় গত ২১ ডিসেম্বর নিহতের বড় ভাই আবদুল কাইয়ুম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এখন পর্যন্ত নজরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হলেও অন্য আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
এদিকে আহাদ হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আসামিপক্ষ কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর মামলার চার আসামির ভাই মাহমুদ আলী বাদী হয়ে নিহতের ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে গরু-মহিষ লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর দায় এড়াতে এবং বাদীপক্ষকে চাপে রাখতে আসামিরা নিজেদের গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে রেখে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “আহাদ হত্যা মামলার আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তার করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ডিজিটাল ট্র্যাকিংসহ সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত চলছে। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এক মাস পার হলেও বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: