নির্বাচন ঘিরে সিলেটে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সিলেটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। জেলা ও মহানগরের ভোটকেন্দ্রগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৮০ শতাংশ সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেছে র্যাব।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম জানান, নির্বাচনের জন্য সিলেট জেলায় ১১০০টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকাগুলোতেও স্থাপন করা হয়েছে নজরদারি ক্যামেরা। কেন্দ্রগুলোর ওপর থেকে তদারকির জন্য থাকবে ড্রোন ক্যামেরা।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ছয়টি সংসদীয় আসনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ইলেকট্রনিক মনিটরিং টিম থাকবে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা প্রস্তুতির মধ্যেই রয়ে গেছে লুট হওয়া অস্ত্রের উদ্বেগ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এখনো এক হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই লাখের বেশি গোলাবারুদ অধরা রয়েছে।
সরকারি হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্টে সিলেট মহানগর এলাকার ছয়টি থানা থেকে লুট হওয়া ১০১টি অস্ত্রের মধ্যে ৮৫টি উদ্ধার হয়েছে। ৫১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। তবে লাইসেন্সধারী অস্ত্রের হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
র্যাব-৯–এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী মঙ্গলবার সিলেটের মদনমোহন কলেজে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৮০ শতাংশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সংখ্যালঘু ও চা–শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম জানান, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মোবাইল টিম ও উপজেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। প্রত্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য বডি–ওয়ার্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ৪টি পাইপগান ও ১১ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পৃথক অভিযানে জৈন্তাপুরে ১০টি এয়ারগান এবং ওসমানীনগরে একটি দোনলা ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: