থামছে না মাতৃগর্ভে শিশুমৃত্যু
সিলেট বিভাগে ৬ বছরে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ হাজারের বেশি শিশু
আধুনিক চিকিৎসা সেবার উৎকর্ষ সত্ত্বেও সিলেট বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাতৃগর্ভে শিশুমৃত্যুর ঘটনা; গত ছয় বছরে (২০২০ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) বিভাগের চার জেলা ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১৩ হাজার ২৪৯টি শিশু জন্মের আগেই প্রাণ হারিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০ হাজার ১৮৮টি মৃত শিশুর প্রসব হয়েছে এবং একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই সংখ্যা ৩ হাজার ৬১টি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে ছয় বছরে ২ হাজার ৪৩৭টি শিশু মাতৃগর্ভে মারা গেছে; যার প্রধান কারণ হিসেবে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রাশিদা আখতার জানান, প্রসবপূর্ব নিয়মিত চেকআপের অভাব, মায়ের অপুষ্টি, কুসংস্কার এবং শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়ার প্রবণতা এই ট্র্যাজেডির অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিনের মতে, হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় বছরের দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকায় গর্ভবতী নারীরা সময়মতো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না, পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের শূন্যপদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গত ছয় বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওসমানী হাসপাতালে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮০৪টি মৃত শিশু প্রসব হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
চিকিৎসকদের মতে, প্রসবকালীন ঝুঁকি এড়াতে অন্তত চারবার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং গ্রাম্য দাই বা ওঝার ওপর নির্ভরশীলতা কমানো গেলে এই অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: