ভূমধ্য সাগর ট্র্যাজেডি
সুনামগঞ্জে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫, দালালদের বিরুদ্ধে মামলা
ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে দালালচক্রের প্রলোভনে সাগরপথে যাত্রা করলেও শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়েছেন সুনামগঞ্জের বহু যুবক। লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলার মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে।
জানা গেছে, দালালদের মাধ্যমে বড় জাহাজে নিরাপদ যাত্রার আশ্বাস পেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ছোট রাবারের নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক এলাকা থেকে ৪৮ জন যাত্রী এভাবে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু পথ হারিয়ে নৌকাটি টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়েন যাত্রীরা। একপর্যায়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অনেকেই প্রাণ হারান।
বেঁচে ফেরা এক যাত্রীর বর্ণনায় জানা যায়, কয়েকদিন পর মৃতদেহে দুর্গন্ধ ছড়ালে দালালদের চাপেই লাশগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রিস কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, পরে উদ্ধার অভিযানে একটি ফ্রন্টেক্স জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ, একজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। অসুস্থ দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার চার উপজেলার ১৫ জন রয়েছেন—দিরাই উপজেলার ৭ জন, জগন্নাথপুরের ৬ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন এবং ছাতকের ১ জন।
ঘটনার পর দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জগন্নাথপুর ও দিরাই থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জনপ্রতি ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে নিরাপদে ইউরোপ পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও দালালরা তাদের সন্তানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি অবৈধ মানবপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: