শেখার আলোয় জেগে উঠছে স্বপ্ন
কোম্পানীগঞ্জে শুরু হলো নারীদের বাঁশ-বেত প্রশিক্ষণ
সিলেট: শেখার স্পর্শে বদলে যাচ্ছে জীবনের গল্প, জেগে উঠছে নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনার অফুরন্ত দুয়ার। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আজ শুরু হলো এক অনন্য, অনুপ্রেরণাদায়ী উদ্যোগ—যেখানে নারীর সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন একসূত্রে গাঁথা হয়ে উঠছে আলোর পথচলায়।
এসএমই ফাউণ্ডেশন এর আয়োজনে এবং সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স-এর আন্তরিক সহযোগিতায় শুরু হওয়া “বাঁশ-বেতজাত পণ্যের ডিজাইন ও মানোন্নয়ন” শীর্ষক ৫ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলবে ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।
ঐতিহ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে আধুনিকতার ডানায় ভর করে এগিয়ে যাওয়ার এই প্রয়াস যেন এক নতুন সম্ভাবনার গল্প। বাঁশ-বেতের প্রাচীন শিল্পকে নতুন নকশা, উন্নত মান ও বাজার উপযোগী ধারণার মাধ্যমে রূপান্তর করে আয়মুখী ও টেকসই উদ্যোগে পরিণত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
প্রায় ৩৫ জন উদ্যমী নারী উদ্যোক্তার প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে স্বপ্নের এক উজ্জ্বল মিলনমেলা। তাদের চোখে ঝিলিক দিচ্ছে আত্মবিশ্বাস, মনে জাগছে অদম্য সাহস আর শেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এখানে তারা শুধু হাতেকলমে কাজ শিখছেন না—তারা শিখছেন নতুনভাবে ভাবতে, নতুনভাবে গড়তে এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্মাণ করতে।
আধুনিক ডিজাইন চিন্তাধারা, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নের কৌশল এবং বাজারমুখী উৎপাদনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এই প্রশিক্ষণকে করে তুলেছে সময়োপযোগী ও কার্যকর। প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাদের ভেতরের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলছে নতুন শক্তিতে।
অংশগ্রহণকারীদের ভাষায়, এটি শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণ নয়—এটি তাদের আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম, স্বপ্ন দেখার সাহস এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এক দৃপ্ত অঙ্গীকার।
নারীর দক্ষতাই জাতির শক্তি—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে আয়োজকরা জানালেন, এই যাত্রা কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
এই আয়োজন যেন এক আলোকবর্তিকা—যেখানে শেখার প্রতিটি স্পর্শে বদলে যাচ্ছে জীবনের গল্প, গড়ে উঠছে আত্মনির্ভর এক আগামী, আর লিখিত হচ্ছে সম্ভাবনার এক নতুন ইতিহাস।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: