সিলেটে হঠাৎ উধাও ভোজ্যতেল,মজুদ রেখে বেশি দামে বিক্রির প্রচেষ্টা
সিলেটের বাজারে হঠাৎ করেই ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
শনিবার সিলেটের কয়েকটি খুচরা বাজার ও কালিঘাট পাইকারি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ব্রহ্মময়ী বাজার থেকে ১ লিটার একটি সোয়াবিন তেলের বোতল নিয়ে বের হন তেমুখীর আনফর আলী। তিনি জানান, ‘তেল চেয়েছি ৫ লিটার,দোকানদার সঙ্কট দেখিয়ে ৫ লিটার দিল’। অবশ্য এই অবস্থা শুধু ব্রহ্মময়ী বাজারেই নয়, সিলেটের বাজারে সবখানেই এমন অবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি বড় দোকানের নিজস্ব গো-ডাউনে পর্যান্ত সোয়াবিন তেল মজুদ রয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রচেষ্টায় দোকানদাররা এমনটি করছে।
সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুদের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক দোকানেই তেল নেই, আবার কিছু দোকানে কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ১৯৫ টাকার পরিবর্তে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২১৫ টাকায়।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরে বাড়তি দামে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করছে না। অনেক ক্ষেত্রে তেল নিতে হলে অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা বাজার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে। ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় সিন্ডিকেটের তৎপরতাই এই সংকটকে তীব্র করেছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: