শাল্লায় ভূমিসেবা মেলা: ডিজিটাল সেবার নতুন দিগন্ত
‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের শাল্লায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সপ্তাহব্যাপী ভূমিসেবা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। এর আগে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে দেশব্যাপী অনলাইন ভূমিসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শাল্লাতেও ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মোহাম্মদের সভাপতিত্বে একটি জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় এবং এলজিইডি প্রকৌশলী আরিফ উল্লাহ খান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল এখন প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায়। ভূমিসেবা এখন আর কোনো জটিল প্রক্রিয়া নয়, এটি এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। যেকোনো নাগরিক এখন ঘরে বসেই অ্যাপস বা অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সরকারি ফি জমা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারছেন। এখানে অতিরিক্ত কোনো টাকা লেনদেনের সুযোগ নেই এবং সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মোহাম্মদ বলেন, ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে অফিসের বাইরে সক্রিয় কিছু দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভূমি অফিসে দালালের কোনো স্থান নেই। সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি অনলাইনে বা অফিসে এসে কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জালিয়াতি ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ অনেকাংশে কমে আসবে। এই উদ্যোগকে সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক সেবাগ্রহীতা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্টলগুলো থেকে উদ্বোধনী দিনেই অনেক নাগরিককে তাৎক্ষণিক ই-নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হয়।
প্রীতম দাস/এআর
মন্তব্য করুন: