নিষ্পাপ শিশুদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
Led Bottom Ad

ডে-কেয়ার সেন্টারে কাটালেন প্রাণোচ্ছ্বল সময়

নিষ্পাপ শিশুদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রথম ডেস্ক

১৯/০৫/২০২৬ ১৭:৪৭:১৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কঠিন ও ব্যস্ততম বাস্তবতার মাঝেও কিছুক্ষণের জন্য যেন এক নির্ভার শৈশবে ফিরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী সোজা চলে যান সেখানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার সেন্টার)। ডে-কেয়ার সেন্টার জুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কচি কণ্ঠের স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, আনন্দময় চিৎকার আর ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপের এক অনাবিল মুখর পরিবেশ; আর এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই নিরাপত্তার সব কড়া প্রোটোকল ও দেয়াল ভেঙে সরকার প্রধান পরম মমতায় মিশে যান শিশুদের মাঝে, কাটান টানা ১৮টি আনন্দঘন মিনিট। কেন্দ্রে প্রবেশের পরপরই ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধরে; কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ পরম আবেগে টেনে নিয়ে যায় নিজেদের খেলনার কাছে, আবার কেউ কেউ নিজেদের কচি হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রীও পরম মনযোগে সেসব দেখেন এবং মুগ্ধ হাসিতে শিশুদের পিঠ চাপড়ে ও মাথায় হাত বুলিয়ে প্রশংসা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা শিশুদের নিয়ে একটি আনন্দময় কেক কাটেন এবং নিজ হাতে সবার মাঝে চকলেট, টফি, ললিপপ ও বিশেষ গিফট ব্যাগ বিতরণ করেন। চকলেট দিতে দিতে প্রধানমন্ত্রী যখন হাসিমুখে জানতে চান, "আজকে কার জন্মদিন বলো তো?" তখন চারপাশ থেকে সমস্বরে শিশুরা "আংকেল আমার, আংকেল আমার" বলে চিৎকার করে উঠলে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন, আসো আমরা একসাথে কেক কাটি।" প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে শিশুদের কেক কাটার সেই মাহেন্দ্রে পুরো কক্ষ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে এবং নিষ্পাপ শিশুরা আনন্দে "হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে" বলে স্লোগান দিতে থাকে; এর মাঝেই এক শিশু পরম ভালোবাসায় কেক খাইয়ে দেয় প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে উপহার ও ভালোবাসা পেয়ে উচ্ছ্বসিত পুচকে শিশু আরিবা তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, "প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি যে কী খুশি বলতে পারছি না! আংকেলের সাথে মজা করে কেক খেয়েছি, আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট।" পরিদর্শনকালে ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না শিশুদের যত্ন নেওয়ার সার্বিক প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেন; এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং তাদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সেদিকে কঠোর নজর রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ তাগিদ দেন।

সেখানে উপস্থিত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি আধুনিক শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ৪ থেকে ৬ বছর বয়সী ৬০ জন নিবন্ধিত শিশু দৈনিক সাড়ে ১০ ঘণ্টা করে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা পেয়ে থাকে এবং আজকের এই বিশেষ দিনে ৫৫ জন শিশু উপস্থিত ছিল। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অত্যন্ত স্নেহভরে ‘টা-টা’ দিয়ে বিদায় জানালে নিষ্পাপ শিশুরাও হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে দেশের সরকার প্রধানকে বিদায় জানায়; এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad