দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে সুনামগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা
"জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা। ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় সারা দেশের সাথে একযোগে অনলাইনের মাধ্যমে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মেলা উপলক্ষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে এক উদ্বোধনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুনজিত কুমার চন্দ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়েশা আক্তার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তাপস শীল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল, সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান সরকারের ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ডিজিটাইজড করার প্রক্রিয়া অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। কিন্তু নানাবিধ বাস্তব সমস্যার কারণে আমরা এখনো শতভাগ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারছি না। এর মধ্যে অন্যতম বড় সমস্যা হলো ইন্টারনেটের গতি, যা দেশের সব জায়গায় এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো শতভাগ ‘ডিজিটাল এফিশিয়েন্সি’ বা কারিগরি দক্ষতা গড়ে ওঠেনি। ঘরে ঘরে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের সেবাগ্রহীতারা সাধারণ কম্পিউটারের দোকানগুলোতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন এবং সেখানে গিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের শিকার হচ্ছেন।
এই সমস্যা সমাধানে সরকারের নতুন ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, জনগণের এই ভোগান্তি দূর করতে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি বিশেষায়িত নাগরিক সেবা কেন্দ্র ‘ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র’ (Land Services Facilitating Centre - LSFC) অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই, নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সহজে ভূমি-সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
মেলা প্রাঙ্গণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে একটি ভূমিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তিন দিনব্যাপী এই মেলায় আগত নাগরিকেরা ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান বা পর্চার আবেদনসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও পরামর্শ সরাসরি গ্রহণ করতে পারবেন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলাটি আগামী ২১ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রীতম দাস/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: