সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’-এর নেতাকর্মীরা সিলেটের জৈন্তাপুরে সাতসকালে একটি ঝটিকা মিছিল করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু এলাকায় জনমানবহীন প্রায় ফাঁকা সড়কে এই ঝটিকা মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও চিত্র দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন তরুণ একটি সুনির্দিষ্ট ব্যানার হাতে নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্লোগান দিয়ে প্রায় ফাঁকা সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন; যেখানে ব্যানারে লেখা ছিল—“দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক রায় বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মিছিল।” এছাড়া বিতর্কের জন্ম দেওয়া ওই ব্যানারের নিচের অংশে স্পষ্ট অক্ষরে “মো. নাজমুল ইসলাম, সভাপতি, সিলেট জেলা ছাত্রলীগ” নামটিও বিশেষভাবে উল্লেখ ছিল।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, ভোরবেলায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম থাকার সুযোগ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জৈন্তাপুর উপজেলার হেমু এলাকায় এসে হুট করে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করে এবং মুহূর্তের মধ্যে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্থান ত্যাগ করে। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন উগ্র কর্মীকে ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে; যাদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহমদ, হেমু দাউদপাড়া গ্রামের রুমেল আহমদ, শ্যামপুর গ্রামের এস কে শাহীন আলম, শেখ সাইফুল ইসলাম এবং শিকারখাঁ গ্রামের ফাহিম আহমদ। দেশের একটি নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে প্রকাশ্য মহাসড়কে ব্যানারসহ মিছিল করার সাহস পায়, তা নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ভোরবেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী কর্তৃক একটি ঝটিকা মিছিলের খবর ও ভিডিও আমরা পেয়েছি; দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিল করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওসি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাষ্ট্রবিরোধী এই কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত অত্যন্ত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে মিছিলে অংশ নেওয়া চিহ্নিত আসামিদের অবিলমে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর একাধিক টিম ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: