সিলেটে ‘ভূমিসেবা ২০২৬’ এর উদ্বোধন
‘ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমাতে ডিজিটাল কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে’—প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
ভূমিসেবা প্রাপ্তিতে দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভোগান্তি, হয়রানি ও জটিলতা চিরতরে অবসান করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেটে আধুনিক ও জনবান্ধব ‘ভূমিসেবা ২০২৬’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে; সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরণের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে দোরগোড়ায় আধুনিক ভূমিসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার নতুন নতুন প্রযুক্তিগত রূপান্তর আনছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান যুগযুগের দুর্নীতি ও অনিয়ম কঠোরহস্তে রোধ করতে চলমান ডিজিটাল কার্যক্রমকে আরও জোরদার ও বিস্তৃত করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী মাঠপর্যায়ের সকল ভূমি কর্মকর্তাদের সাধারণ জনগণের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার জোর আহ্বান জানান।
‘ভূমিসেবা ২০২৬’ কার্যক্রমের জেলাভিত্তিক এই বিশেষ শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকালে সিলেট নগরীতে একটি দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়; র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে এসে মিলিত হয়। এই বর্ণাঢ্য র্যালি ও উদ্বোধনী কর্মসূচিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা ভূমিসেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুনভাবে শুরু হওয়া এই ‘ভূমিসেবা ২০২৬’ মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমগ্র সেবাপ্রক্রিয়াকে আরও বেশি জনবান্ধব, সহজ ও একটি নিরেট ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যাতে করে সাধারণ নাগরিকেরা ঘরে বসেই ই-নামজারি, খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত যাবতীয় রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: