জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
রাজধানী ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একাডেমিক ভবনের অভ্যন্তরে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগে আইন ও সমাজকর্ম বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত ওই দুই শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন। স্থানীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (১৮ মে) দুপুরের দিকে আইন বিভাগের একটি ফাঁকা ক্লাসরুমের ভেতরে ওই বিভাগের এক ছাত্র এবং সমাজকর্ম বিভাগের এক ছাত্রীকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অনৈতিক অবস্থায় হাতেনাতে দেখতে পান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটির বিবরণ ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র নিন্দা, আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নজরে এলে প্রক্টরিয়াল বডির প্রাথমিক তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দ্রুত এই কঠোর শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদাই একটি সুশৃঙ্খল, ঐতিহ্যবাহী ও উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান; এই ক্যাম্পাসের পবিত্র পরিবেশ, ঐতিহ্য ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় বা কলঙ্কিত হয়—এমন কোনো উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করবে না এবং প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতার ভিত্তিতেই দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এই তাত্ক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রিস্টিন রিচার্ডসন এই বিষয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চ নৈতিকতা ও সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব; অভিযুক্তদের এমন অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ভবনের ভেতরে বা প্রাঙ্গণে এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক আচরণ বজায় রাখতে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভাগীয় স্তরে নজরদারি আরও জোরদার ও কঠোর করা হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: