এলাকায় তীব্র ক্ষোভ
দিরাইয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ শিশুখাদ্য ও ওষুধ বিক্রি
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরের একটি নামী ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিশুখাদ্য ও ওষুধ (সাপ্লিমেন্ট) বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘জালাল সিটি সেন্টারে’র পিটি রায় ফার্মেসীতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পৌর শহরের বাসিন্দা সোয়েরা বেগম তাঁর নাতনির পুষ্টির জন্য পিটি রায় ফার্মেসী থেকে ‘মনি মিক্স’ নামের একটি শিশুখাদ্য/সাপ্লিমেন্ট কেনেন। বাড়িতে ফিরে শিশুকে খাওনোর আগমুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন যে, পণ্যটির মেয়াদের তারিখ অনেক আগেই পার হয়ে গেছে।
বিকেলে ভুক্তভোগী সোয়েরা বেগম মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধটি নিয়ে পুনরায় ওই ফার্মেসিতে যান এবং দায়িত্বরত কর্মীদের বিষয়টি অবহিত করেন। তবে ফার্মেসি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী সোয়েরা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ওষুধ ফেরত নিয়ে গেলে ফার্মেসির কর্মচারীরা আমাকে ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন এবং কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এটা তো শুধু আমার একার বাচ্চার জীবনের বিষয় নয়। আমি নিয়মিত ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও যদি আমার কাছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা হয়, তবে অন্যদের কাছেও তা করা হতে পারে। এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরও বলেন, আমি বয়স্ক মানুষ, কোথায় গিয়ে আইনি অভিযোগ করতে হবে তা জানি না। কিন্তু প্রশাসন কি এসব ফার্মেসি তদারকি করে না? সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি চাই এই অন্যায়ের কথা সবাই জানুক এবং মানুষ সচেতন হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিটি রায় ফার্মেসীর কর্মী দীপক ভট্টাচার্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত ঔষধগুলো চলে গেছে। এগুলো আমরা বিক্রি না করার জন্য আলাদা সরিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আমাদের অসতর্কতায় কীভাবে উনার কাছে চলে গেল, তা আমরা লক্ষ্য করিনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং ওই নারীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মানুষের জীবন-মরণ ও শিশুস্বাস্থ্যের সাথে জড়িত ওষুধ বিক্রিতে "ভুলবশত" শব্দটির ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি স্পষ্টত চরম অবহেলা ও আইনলঙ্ঘন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সনজীব সরকার জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভুক্তভোগী ক্রেতাকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দিরাইয়ের ড্রাগ ইমপেক্ট ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে অবিলম্বে বাজার তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে দোষী ফার্মেসিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রীতম দাস/এআর
মন্তব্য করুন: