তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিছু হবে না, শত্রুর প্রতিও ইনসাফ থাকবে’
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিও সম্পূর্ণ আইনি ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার বজায় রাখা হবে এবং তিনি যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের এক্সট্রা জুডিশিয়াল বা বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না বলে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক নিয়মিত ও জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন; যেখানে সংবাদ সম্মেলনের মূল পর্বে বর্তমান সরকারের বিগত তিন মাসের শাসন আমলের বহুমুখী কর্মকাণ্ড ও নানামুখী সফল অগ্রগতির বিস্তারিত খতিয়ান দেশবাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার বিচার ও দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা আমাদের সবারই সবসময় খেয়াল রাখা দরকার যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা বা দেশের আপামর জনগণ ক্ষমতার মসনদ থেকে হটাতে চেয়েছি এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, কারণ তিনি দেশের মানুষের সাথে ইনসাফ বা সুশাসন করেননি; কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার রক্তে যে নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে, সেটার প্রধানতম মূল দর্শন ও উদ্দেশ্যই হচ্ছে সমাজে শতভাগ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, আর এই নতুন বাংলাদেশে আমাদের পরম শত্রুর প্রতিও রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণ ইনসাফ বজায় রাখা হবে, তাই শেখ হাসিনার প্রতিও আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ ইনসাফ থাকবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে চলমান মামলা ও ইতিমধ্যে ঘোষিত দণ্ডাদেশ কার্যকর করার ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যদি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে বাংলাদেশে আসেন, তবে তাকে কোনো ধরনের এক্সট্রা জুডিশিয়াল বা ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত হেনস্থার শিকার আমরা মোটেও করব না; ওনার বিরুদ্ধে যেসমস্ত অপরাধের বিচার হয়েছে বা চলমান রয়েছে, সেখানে ওনাকে সম্পূর্ণ আইনি নিয়মে নিজেকে ডিফেন্ড করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে সর্বোচ্চ আইনি সুযোগ আবার দেওয়া হবে।’
তিনি টেকনিক্যাল ও আইনি বিষয়ের অবতারণা করে আরও যোগ করেন, প্রপার আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আদালত থেকে যদি তিনি তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে টেকনিক্যালি বা আইনি মারপ্যাঁচে মুক্তি পান বা খালাস পান, তবে দেশের আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে সরকার হিসেবে আমরা আদালতের সেই রায় নিঃসংকোচে মেনে নেব; আর যদি তিনি অপরাধী প্রমাণিত হন এবং তাঁর সাজা বহাল থাকে, তবে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ীই তা যথাযথভাবে কার্যকর করা হবে—আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত এবং আসল ইনসাফ। সম্পূর্ণ নিরেট ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের সামনে তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন, আদালতের মাধ্যমে প্রপার বিচারিক প্রক্রিয়া শতভাগ অনুসরণ করে যদি কারও বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা মিলে এবং আইন অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে সেটিও কিন্তু এক ধরণের পরম ইনসাফ বা ইনসাফের প্রতিফলন; কারণ রাষ্ট্র এখানে কোনো একক ব্যক্তির আক্রোশে নয়, বরং নিরেট আইনের ধারা অনুসরণ করেই কাজটা সম্পন্ন করেছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: