সিলেটে মুছে গেল সামাদ আজাদের নাম, প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরের নামে চণ্ডীপুল চত্বর
ক্ষমতার চাকা ঘুরলেই বাংলাদেশে শুরু হয় এক চেনা খেলা—নামকরণের আড়ালে নাম হরণের খেলা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই চিরন্তন রীতির ধারাবাহিকতায় এবার সিলেটে বদলে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘চণ্ডীপুল গোলচত্বরটি’ থেকে সামাদ আজাদের নাম মুছে সেখানে নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান চত্বর’।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নামকরণ বদলের দৃশ্য দেখা গেল।
নতুন নামকরণের কেন্দ্রে থাকা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান সিলেটেরই কৃতী সন্তান, তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বড় পরিচয়—তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুর এবং ডা. জুবাইদা রহমানের বাবা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হুট করেই চত্বর থেকে পুরোনো নাম মুছে ‘এম এ খান চত্বর বাস্তবায়ন কমিটি’র ব্যানারে নতুন নামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে প্রচারও করা হয়।
এই নাম বদলের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে চাটুকারিতার রঙও বদলে যায়। তবে বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম আহমদ আলীর দাবি, ২০০৯ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বিধি বহির্ভূতভাবে সামাদ আজাদের নামে এই চত্বরের নামকরণ করেছিলেন। মাহবুব আলী খানের বাড়ি যাওয়ার পথটি এই চণ্ডীপুল হয়ে হওয়ায়, তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
তবে শুধু দক্ষিন সুরমার চন্ডিপুলস্থ সামাদ আজাদ চত্বরই নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সিলেটে স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের এই হিড়িক চলছেই। যেমন-সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ৬টি আবাসিক হলের নাম দফায় দফায় পরিবর্তন ও পুনর্বহাল করা হয়েছে। যার মধ্যে ‘আব্দুস সামাদ আজাদ হল’ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘জেনারেল এম এ জি ওসমানী হল’।
এদিকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় নাম হারানো দক্ষিণ সুরমার একটি পার্ক এবং গত ৩ মার্চ নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘কবি নজরুল অডিটোরিয়াম’-এর নাম পরিবর্তন করে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের নামে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
চণ্ডীপুল চত্বরের পর এবার কদমতলী বাস টার্মিনাল এলাকার 'হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী চত্বর' কিংবা পারাইরচকের 'পীর হবিবুর রহমান চত্বর'ও একই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয় কি না—তা নিয়ে এখন শঙ্কিত খোদ সিলেটবাসী।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: