মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

মৌলভীবাজারে পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

প্রথম ডেস্ক

০৯/০৭/২০২৬ ১৮:৫১:২৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর সীমান্তবর্তী মখাবিল এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ভাঙ্গনে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নে বেশ কিছু গ্রাম প্লাাবিত হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ১৫ হাজার মানুষ। পানির স্রোতে রোপিত আউশক্ষেত ও শাকসবজি’র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, নদী ভাঙনের ফলে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালায়েরবিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেঁতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা গ্রাম প্লাবিত হয়। উপজেলার​বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। পানির স্রোতে রোপণ করা আউশ খেত ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় বিএসএফের বাধার কারণে মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধটি আগে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নদী ভরাট হলেই মখাবিল এলাকায় বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার এই পানি বর্তমানে নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, বন্যার পানির স্রোতে আউশ এবং সবজি খেত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কমলগঞ্জ-মাধবপুর হয়ে শ্রীমঙ্গলে যাতায়াতের সড়কের নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিমি, বুধবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিমি এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে ঢল নেমে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। মাঠে এখনও বন্যার পানি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর ভাঙনে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় ইতিমধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন: