সোলেমান রাসেল এর গুচ্ছ কবিতা ‘তানিয়ানগর ও অন্যান্য’
তানিয়ানগর
*
চোখ দুটি যেন এক মায়ালেপা ঘর
বুদ হয়ে পড়ে আছি তানিয়ানগর।
**
মুখখানা যেন এক চাঁদের গঠন
নাকফুলে ভেসে ওঠে একতারা ফুল
ঠোঁট দুটি গোলাপের পাপড়ি সারস
কানে কানে ফুটে আছে শাপলা-বকুল।
বুকে তার ঢেউ তুলে গম্বুজ-হারেম
হৃদয়ের নদী জলে উতলায়ে প্রেম—
***
আচমকা এই মনে মারে একটান
আনমনা ডুবে যাই মায়া ভরা নদী—
ঢেউ তুলে পলাতক শোকের বয়ান
স্রোত হয়ে বয়ে যায় প্রেম নিরবধি।
ফুল পাখি যেলা করে প্রেমের আলাপ—
সোলেমান রাসেলের তানিয়া বিলাপ।
****
চাষযোগ্য হৃদয়ের উর্বর ভূমিতে
তোমাকে রোপণ করি বাসমতি ধান—
ধ্যানগুলো ছিটে দিই সারের মতন
গোছায় গোছায় বুনি যৌবনের গান।
ছড়ায় ছড়ায় যদি তুমি ওঠো ভাসি
পুরোদমে হয়ে যাব আমি এক চাষি।
পা পা করে হাঁটা শিখছি
*
আব্বার অকাল প্রয়াণে
আমাদের মাথার ওপরে থাকা শেষ ছাতাটি হারিয়ে যায়
আমরা মোরগ ছানার মতো লুকিয়ে থাকি
আম্মার ডানার ভেতর।
দুঃখগুলো আষাঢ় শ্রাবণের রোদ-বৃষ্টিতে
আম্মার শুকনো-ভেজা শরীর হয়—
আমরা মেঘগুলোর মতোন পা পা করে হাঁটা শিখছি।
আওয়াজ বাজুক
*
বেদনার চোখে ঝরা জল
এক নদী শুঁকে হোক খাক
আকাশের মেঘ জমে যাক
ভাবনার তুখোড়ে অতল—
রক্তবীজে ফুলেরা ফুটুক
নীরবতা ভেঙে;পাখিদের
উম্মাদনা গণমুখী হোক
মুক্তিগামী মানুষের ফের
স্বপ্নেরা জেগে ওঠুক মনে
বসন্তের ফুলপাতা হয়ে
রাতজাগা তারাদের মতো
দীপ্ত আলোর মশাল ল’য়ে
পায়ের আওয়াজ বাজুক
মুসোলিনির শঙ্কিত বুকে
জীবন সুর হোক, অভয়—
দেয়ালিকার বারুদ শুঁকে।
দীর্ঘায়ু
*
মানুষ তো মইরাও
পথিক পথিক
বেঁচে—থেকে যায় হৃদয়ের মধ্যখানে
যেলা শীতলপাটির দুধারা বাইন লাগে
মুর্তার বেতে বেতে—
প্রেমের শ্রমিক
*
আমি নক্ষত্রতারার প্রতিবেশী এক
জীবন ভেঙে যাওয়া প্রেমের শ্রমিক।
ফেরা
*
যে মানুষ দরজায় এসে ফিরে যায় বারেবারে
তারও দরজার কাছে এসে কেউ কড়া দুটি নাড়ে—
কিছু বেদনা বোধের বসন্তিরাঙার ফুল ফুটে
কিছু প্রেম-ভালোবাসা হলদে পাতার মতো ঝরে
কিছু আওড়ানো কথা বিরহ তুফান বয়ে যায়
কিছু আশ্রয় বাসনা ডুবে হৃদয় ভাঙান চরে—
যেন আসা যাওয়ার পথে পথিক পথিক দেখা
সব যার ঘরে আছে—সেও ঘরে ফিরে হয় একা।
প্রথম সিলেট সাহিত্য ডেস্ক
মন্তব্য করুন: